কুরুলুস উসমান পর্ব ৭৮ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ১৯

বায়েজীদের চার পুত্র সিংহাসনের দাবি নিয়ে নিজেদের মাঝে বিবাদে
জড়িয়ে পড়ে–এরই মাঝে আরেকজন এসে নিজেকে বায়েজীদের পঞ্চম পুত্র
হিসেবে দাবি করে। এদেরকে সমর্থন দিতে থাকে যার যার অনুসারী স্থানীয়
রাজপরিবার । বাইজেন্টাইন সম্রাট নিজের উদ্দেশ্য হাসিল হয় এমন কাউকেই
নির্বাচন করার কথা চিন্তা করেন। অন্যদিকে বলকান অঞ্চলের বিস্টান প্রজা
রাষ্ট্ররাও নিজেদের ভূমি পুনরুদ্ধারের আশায় জেগে ওঠে।

পুরো সাম্রাজ্যের সমগ্র অঞ্চল প্রধান দুইটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
একদিকে ইউরোপীয় অংশ। এ অংশ শাসন করতেন আদ্রিয়ানোপল থেকে
সুলেমান। অন্যদিকে বার্সা থেকে শাসন করতেন মাহমুদ । তার অংশ ছিল
আনাতোলিয়া। কোনো সাম্্রাজ্যই এমন বিভক্ত হয়ে টিকে থাকতে পারে না।
বায়েজীদের অপর দুই পুত্র ইসা মুসা গৃহযুদ্ধে মেতে ওঠে। মুসা সুলেমানকে
হত্যা করার পর নিজেও মাহমুদের হাতে নিহত হন। অবশেষে মাহমুদ বিজয়ী
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৪১৩ সালে তিনি সুলতান প্রথম মাহমুদ নামধারণ করে ক্ষমতায় আরোহণ
করেন। সমর্থনকারী হিসেবে পেয়েছেন দুই শক্তিশালী মিত্র। আনাতোলিয়া এবং
জানিসারিয়া। এভাবে বিশৃঙ্খলার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় প্রশাসক নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত
হয় এবং অটোমান রাষ্ট্র পুনরায় একত্রিত হয়।

রাষট্রনায়কসুলভ আচরণের ফলে মাত্র আট বছরের শাসনামলেই মাহমুদ
অটোমান সাম্রাজ্যের ভিত্তি পুনঃস্থাপন করেছেন। মাত্র এক প্রজন্মের মাঝেই
পরবর্তীতে উন্মেষ ঘটে অটোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজেতা- দ্বিতীয় মাহমুদ ।

বিজয়ী মাহমুদের ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত ছিল; যে তিনি কনস্টান্টিনোপল দখল
করবেন। তিনি প্রথম মাহমুদের পৌত্র এবং দ্বিতীয় মুরাদের পুত্র। দ্বিতীয়
মুরাদ ছিলেন একজন আলোকিত শাসক। যিনি নিজের ত্রিশ বছরের
রাজত্বকালে ন্যায়বিচার, বিশ্বস্ততা, প্রজাদের মঙ্গলার্থে দয়াশীল কার্যক্রমের
জন্য অটোমান জনগণের ন্নেহ এবং শ্রদ্ধা আদায় করে নিয়েছিলেন। তিনি
ছিলেন শান্তিবাদী মানুষ। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন যুদ্ধের ডামাডোল লেগেই
থাকত এ সময়ে ।

শাসনকালের শুরুতেই মুরাদের শাস্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম ভেস্তে যায়।
ইউরোপ এবং এশিয়া উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুরা তার নিজের মাঝের বলশালী ও
সামরিক দক্ষতাকে উসকানি দিতে থাকে । একই সাথে শক্রর সাথে আলোচনা
ও চুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সৎ।

প্রথমেই জানিসারিসদের সহায়তা ও উলেমাদের সমর্থনে সালতানাতের
ভুয়া দাবিদারকে’পরাজিত করেন। এরপর কনস্টান্টিনোপল অবরোধে অগ্রসর
এবং প্রথমবারের মতো এর দেয়ালে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেন এবং
চলনশীল টাওয়ার প্রস্তুত করেন। কিন্তু গ্রিকরা শহর প্রতিরক্ষা করে। ইতিমধ্যে
ম্যানুয়েলের মৃত্যুর পর মুরাদ তার উত্তরসূরি অষ্টম জনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর
করেন। কনস্টান্টিনোপল অবরোধ বিলম্ব করেন। কিন্তু সাম্রাজ্যের অঞ্চলকে
পুনরায় সংকুচিত করে শহরের মাঝে খুব কম অংশই বাকি রাখেন রাজত্ব
করার জন্য । এরপর নিজের সৈন্যবাহিনীকে আনাতোলিয়া পার হয়ে ছোট ভাই
মুস্তাফার বিদ্রোহ দমনে অগ্রসর করেন। কারামানিয়ার বাহিনী মুস্তাফার সাথে
যোগ দেয়। এদেরকে দ্রুতই পরাজিত করে ফীসিতে ঝোলানো হয়। এরপর
দক্ষিণ আনাতোলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে মুরাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইউরোপে দুটি শক্তি হাঙ্গেরি এবং ভেনিস মুরাদের বিরোধিতা শুরু করে ।

হাঙ্গেরি কনস্টান্টিনোপলকে নিয়ে স্্রাভ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে থাকে আর
ভেনেশীয়রা সমুদ্রে নিজেদের আধিপত্যের স্বপ্ন দেখতে থাকে। মুরাদ এদের
বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে বাধ্য হন, যখন সম্রাট ভেনিসের কাছে সালোনিকার
গুরুতৃপূর্ণ বন্দর বিক্রি করে দেন। ১৪৩০ সালে আক্রমণ করে শহর দখল
করে নেন মুরাদ । ফলে এ শহর এবং চারপাশ অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত
হয়। ভেনেশীয়রা পরাজিত হয় কিন্তু সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ, অধিবাসীদের
নির্বিচারে হত্যা করা থেকে নিজের সৈন্যদের নিবৃত্ত করেন এবং একটি চুক্তি
স্বাক্ষর করেন, যা মোতাবেক তার রাজত্জুড়ে ভেনেশীয়রা স্বাধীনভাবে ঘুরে
বেড়ানো ও সমুদ্রে বাণিজ্য করার সুবিধা পেয়েছিল।

১৪৩৭ সালে রাজা সিগিসমুন্ডের মৃত্যুর পর কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারী
না থাকায় বলকান অঞ্চলে অরাজকতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দানিয়ুবের
দক্ষিণাঞ্চলে ও সাবীয়ার ওপর অটোমানদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তাই মুরাদ
রাজার মৃত্যুর পরের বছরই অথসর হন। সোমেস্ড্িয়ার শক্তিশালী দুর্ণ দখল
করে অত্যাচারী রাজা জর্জ ব্রাঞ্কোভিটজকে উৎখাত করেন।

কিন্তু কয়েক মাস
অবরোধ করে রাখার পরও বেলগ্েভ দখল করতে অসমর্থ হন মুরাদ । কিন্ত
রাজার মৃত্যুর কারণে ওয়ালাসিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ এনে দানিয়ুব হয়ে হাঙ্গেরির
ওপর নজরদারি করতে সমর্থ হন। হাঙ্গেরি নিজের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দে অতিষ্ঠ
হয়ে পোলান্ডের রাজা তৃতীয় লাডিসলাসের মুখাপেক্ষী হয়। তিনিই উভয় দেশ
শাসন করতে থাকেন। এখানেই হাঙ্গেরির জাতীয় নেতা হুনযাদীর আবির্ভাব
ঘটে। হুনযাদী রাজা লাডিসলাসের হয়ে ট্রানসিলভ্যানিয়ার অঞ্চল এবং হাঙ্গেরি
শাসন করতে থাকে।

হাঙ্গেরিয়রা আবেগতাড়িত হয়ে তাকে শুভ্র নাইট’ খেতাবে ভূষিত করে।
পূর্বদেশীয় খ্রিস্টান রাজাসমূহের আশার আলো হিসেবে দেখা দেন তিনি। এর
মাধ্যমে তারা আশা করতে থাকে যে অবিশ্বাসী তুর্কিদের হাত থেকে মুক্তি
পেয়ে একতাবদ্ধ হতে পারবে ।

এভাবে দক্ষিণ হাঙ্গেরির সীমান্তের প্রায় দুইশত
মাইল পর্যন্ত সফলভাবে প্রতিরক্ষার মাধ্যমে হুনযাদী তুর্কিদের বিরুদ্ধে বেশ
কিছু যুদ্ধে জয়লাভ করেন। এতে করে তুর্কি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়
আর খ্রিস্টানরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে নিজেদের গির্জাসমূহ দখলকৃত
অটোমান ট্রফি আর পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তোলে । এটা বিশ্বাস করা হয় যে
হুনযাদী রাজা সিগিসমুভ্ডের সত্যিকার পুত্র। একসময় রাজা যেটা চেয়েছিলেন
হুনযাদীও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছে ক্রুসেডের মাধ্যমে তুর্কিদেরকে
ইউরোপে থেকে বিদায় করা ।

Leave a Comment