কুরুলুস উসমান পর্ব ৭৯ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ২০

প্রথম দিকে শুধুমাত্র হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড এবং পরবর্তীতে ওয়ালাসিয়া,
বলকান জনগণ, সাবীয়ারা, বুলগেরিয়াবাসী, বসনিয়াবাসী, আলবেনিয়াবাসীর

সমন্বয়ে এই ক্রুসেড ১৪৪৩ সালে নিশ্‌ শহর দখল করে । তুর্কি দুর্ণের ব্যাপক
ক্ষতি হয়। এরপর সোফিয়া দখল শেষ হওয়ার পর তুষারবৃত্ত বলকান পার
হয়ে থ্েসিয়ার সমভূমিতে পৌছায় ক্রুসেভাররা ।

পথিমধ্যে তুর্কি বাহিনীর বাধা গলিত তুষারপাত সবকিছু মিলিয়ে
ক্রিসমাসের পর তাদের বিভিন্ন জিনিসপত্রের মজুদের অভাব দেখা যায়।
ক্রমবর্ধমান তুর্কিদের চাপের কথা মাথায় রেখে অবশেষে হুনযাদী পিছিয়ে বুদা-
তে যাওয়ার নির্দেশ দেন তার বাহিনীকে ।

এ সময় সুলতান মুরাদ দশ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা করেন।
এটি মোতাবেক সাবীয়া এবং ওয়ালাসিয়া কার্যত অটোমান সাম্রাজ্য থেকে মুক্ত
হয়ে যায়। অন্যদিকে হাঙ্গেরি দানিয়ুব পার না হতে রাজি হয়।

নিজের সাম্রাজ্যের সীমান্তসমূহে শান্তি ও একতা পুনঃস্থাপিত করার পর
সুলতান কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রতি মনোনিবেশ করেন।
জানিসারিসদের সংখ্যা এবং বিস্তৃতি বাড়ান । এক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ধরে
আনা তরুণেরা নয়; বরঞ্চ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে দেশীয় খিস্টান জনগণের মধ্য
থেকেও নিয়োগদান শুরু করেন। প্রায় সাত হাজার সৈন্যযোগে এ বাহিনী
সাম্রাজ্যের স্তম্তরূপে আবির্ভূত হয়।

দ্বিতীয় মাহমুদের শৈশব ততটা মধুর ছিল না। পিতা নিজেও মাহমুদের
তুলনায় বড় দুই ভাইকে অত্যধিক স্নেহ করতেন। তাদের মায়েরা ছিলেন
সন্ত্রান্ত ঘরের। অন্যদিকে মাহমুদের মা ছিলেন দাস বংশের এবং যদিও প্রমাণ
পাওয়া যায়নি কিন্তু সম্ভবত খ্রিস্টান বংশের ।

দুই বছর বয়সে নার্সের হাতে বড় হওয়া মাহমুদকে আমাসিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এটি উত্তর আনাতোলিয়াতে অবস্থিত। এখানে বসবাস করত অটোমানদের প্রাচীন এবং
প্রভাবশালী পরিবারসমূহ। একই ভাবে এটি ধর্মীয় স্থান হিসেবেও গুরুতুপূর্ণ ছিল। এটি
মুরাদের জনুস্থান ছিল। তিনি পুত্রদেরকে রাজধানীর বাইরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ
করতেন। যেন বিদ্রোহের কোনো ক্ষতি তাদের ছুঁতে না পারে।

কিন্তু মাহমুদের বড় ভাইয়েরা কম বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন। মাহমুদ
নেন। মাহমুদের অন্য ভাই ম্যাগনেসিয়ার গভর্নর হন। দু’বছর পর পিতার
শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আলী ।

এগারো বছর বয়সে মাহমুদকে ম্যাগনেসিয়া থেকে আড্রিয়ানোপল ডেকে
পাঠান মুরাদ । কিন্তু মাহমুদের শিক্ষার অভাব দেখে পিতা মর্মাহত হন। তিনি
পুত্রের জন্য আহমেদ কৌরানী নামধারী মোল্লাকে নিয়োগ দান করেন কোরান
এবং ধর্ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

প্রমাণ আছে যে সুলতান শিক্ষককে একটি রড দিয়েছিলেন, যেন প্রয়োজন
হলে রাজকুমারের ওপর ব্যবহার করা যায়।

প্রথমে শিক্ষকের কথা না মানতে চাইলে বেত্রাঘাতের পর মাহমুদ
মোল্লাকে মান্য করা শুরু করেন। শীঘ্বই তিনি কোরান আয়ত্ত করে নেন।
এভাবে আলোকিত পঞ্জিত এবং পরামর্শকদের মাধ্যমে মাহমুদ মানসিকভাবে
শক্তিশালী হয়ে বেড়ে উঠতে থাকেন।

আড্রিয়ানোপল থেকে মুরাদ এশিয়াতে অবসর যাপনে যান। এক্ষেত্রে
প্রধান উজির হালিলের নির্দেশ মাহমুদ মেনে নিতে পারেনি । অন্যদিকে এক
পারসীয় দরবেশের প্রচলিত ধর্মমতের বিরুদ্ধে প্রচারিত বাণীর প্রতি আগ্রহী
হয়ে উঠেন মাহমুদ । প্রধান বিষয় ছিল ইসলাম ও খ্রিস্টান তত্বের মাঝে
সাদৃশ্য।

এদিকে মাহমুদের আগ্রহ দেখে প্রধান উজির হালিল এবং প্রদান মুফতি
প্রতিষ্ঠিত ধর্মব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠে । পারসীয় দরবেশকে ধরার চেষ্টা
করলেও তিনি পালিয়ে সুলতানের রাজপ্রাসাদে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

পরবততীতে প্রধান মুকতির মাধ্যমে মাহমুদ এ সঙ্গ ছাড়লেও তীর
মাঝে দোটানা সৃষ্টি হয়। অটোমান প্রতিষ্ঠিত ধর্মব্যবস্থা ও নিজের সত্য
অনুসন্ধান নিয়ে । ফলে প্রধান উজির হালিলের সাথে তার সম্পর্ক খারাপ
হয়।

এর কিছুদিন পরই জানিসারিসরা বেতন বৃদ্ধির জন্য বিদ্রোহ শুরু করে।
প্রথমে মাহমুদ তাদের আবেদন খারিজ করে দিলে জানিসারিসরা থেপে যায়।
আড্রিয়ানোপল জুড়ে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে গেলে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু
হয়। জানিসারিসরা মাহমুদের ব্যক্তিগত কাউন্সেলর সিহাব-নদ-দীন পাশার
ওপর রোষায়িত হয়ে উঠলে তিনি পালিয়ে প্রাসাদে আশ্রয় নেন। ফলে তাদের
বেতন বৃদ্ধির দাবি মেনে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে হালিল এবং মাহমুদের মাঝে দূরত্ব গড়ে ওঠে জানিসারিস
ভ্রাফট সিস্টেমকে কেন্দ্র করে। এর মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে
খ্রিস্টান ধর্মত্যাগীরা ধীরে ধীরে উচ্চ পদ দখল করা শুরু করে। এদের
একজন ছিলেন সিহাব-এদ-দীন । অনেক সময় প্রাক্তন ক্ষমতাবান মুসলিম
পরিবারসমূহ এ অধিকার বঞ্চিত হতে থাকে । যেমন ঘটে হালিলের
ক্ষেত্রে। এটি ধরা হয় যে হালিল জানিসারিসদের বিদ্রোহ উসকে দিয়ে
নিজের ক্ষমতার প্রয়োগ ও তরুণ মাহমুদকে শিক্ষা দিতে চেয়েছে । ফলে
সাম্রাজ্যের প্রশাসনে পুরাতন মুসলিম ও নতুন ধর্মত্যাগী খ্রিস্টানদের নিয়ে
ছন্দ্‌ প্রকট হতে থাকে! ফলাফলস্বরূপ সুলতান মুরাদ অবসর যাপন থেকে
ফিরে আসেন ।

মুরাদের প্রথম অবসর যাপনের সময়কাল খুব বেশি হলে তিন মাস স্থায়ী
হয়েছিল। এদিকে হুনযাদীর অভিযান বিদেশে সবার মাঝে প্রত্যাশী বাড়িয়ে
তুলতে থাকে। হুনযাদী প্রতিজ্ঞা করেন যে প্রণালি পথকে নৌবাহিনী দিয়ে
সুরক্ষিত রাখবেন। বাইজেন্টাইন স্মরাট মুরাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে
লাডিসলাসের কাছে অনুনয় করেন খ্রিস্টানদের বর্ম সুরক্ষার জন্য । লাডিসলাস
এতে সম্মতি প্রদান করেন। এক্ষেত্রে তিনি পোপের কার্ডিনাল জুলিয়ানের দ্বারা
কুসেডে উদ্বুদ্ধ হন।

ফলাফলম্বরূপ সারবীয়ার সেনাবাহিনী বাদ দিয়ে অন্যান্যদের নিয়ে ক্রুসেড
বাহিনী তৈরি হয়। সবাই সুলতানের অনুপস্থিতিতে যুদ্ধ জয়ের স্বপ্নে বিভোর
হয়।

Leave a Comment