কুরুলুস উসমান ভলিউম ৮২ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ২২

এরপর সুলতান সম্রাটের কাছে দূত পাঠান যুদ্ধ বন্ধ করে
শান্তির জন্য। শহরের অধিবাসীদের সুলতান আত্মসমর্পণের বিনিময়ে অটোমান
সাম্রাজ্যের অধীনে নিরাপত্তা ও সম্পন্তি লাভের কথা শোনান। শহরবাসীরা
প্রত্যাখ্যান করে৷ এরপর এপ্রিল মাসের ছয় তারিখে শুরু হয় বোমাবর্ষণ। এক
সপ্তাহ পর এর প্রচণ্ততা বেড়ে যায়, চলে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত ।
গোলন্দাজের ওপর নির্ভর করেছেন বেশি! কিন্তু তারপরেও তার সৈন্যরা
কোনো দ্রুত সাফল্য দেখাতে পারেনি । বিশাল বিশাল গোলার আঘাতে দেয়ালের
কোনো কোনো অংশ সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো কার্যকর ফাটল তৈরি করতে
পারেনি। বরঞ্চ গ্রিক সৈন্যরা দ্রন্তই তা মেরামত করে নেয়।

সমুদ্ধ আক্রমণের ক্ষেত্রেও সুলতানের সৈন্যরা প্রত্যাশিত সাফল্য লাভে
ব্যর্থ হয়। গোল্ডেন হর্নের ওপর আগের মতোই ঘ্িকদের আধিপত্য বজায়
থাকে। এর ওপরে আবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অস্ত্র ও রসদবোঝাই
কাছে পৌছে যায়। সুলতান তার আ্যাডমিরাল এ জাহাজগুলো ডুবিয়ে দেয়ার
নির্দেশ দিলেও কাজ্ফিত ফল আসে না। খ্রিস্টান জাহাজগুলো তুর্কিদের হারিয়ে
নিরাপদে গোল্ডেন হর্নের আশ্রয়ে পৌছে যায়।

সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ বুঝতে পেরেছিলেন শুধু স্থুলপথে আক্রমণ
করলেই কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটানো যাবে না। কিন্তু এখন তার
সমুদ্রপথের আক্রমণও ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠার জন্য সম্ভবত তারই
কোনো ইটালিয়ান সৈন্য সুলতানের মাথায় অভিনব এক পরিকল্পনা ঢুকিয়ে
দেয়। জমির ওপর দিয়ে বসফরাস থেকে গোল্ডেন হর্ন পর্যন্ত জাহাজগুলোকে
টেনে নেয়া। সুলতানের প্রকৌশলীরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুইশ ফুট উচ্চতায়
উপত্যকায় ওপর থেকে শুরু করে ঢালু বেয়ে পোতাশ্রয় পর্যন্ত আরেকটি
সাহায্যে জাহাজগুলোকে টেনে নেয়া হয়।

এভাবে পাল উঠিয়ে পতাকা টাঙিয়ে বিস্মিত খরিস্টান সৈন্য ও পাহারাদারদের
চোখের সামনে পাহাড় বেয়ে তাদের পোত্রাশ্রয়ের ওপর নেমে আসে জাহাজের
ণহর। এভাবে গ্রিক ও প্রতিরক্ষা ব্যুহর মাঝে গোল্ডেন হর্নের ভেতরে সন্তরটি
তৃর্কি জাহাজ ভাসাতে শুরু করে। জোনাই এবং ভেনেশীয়রা হালকা জলযান
দিয়ে আঘাত করতে চেষ্টা করলেও তুর্কিরা আক্রমণ প্রতিহত করে । গ্রিকরা
গোল্ডেন হর্নের নিয়ন্ত্রণ হারায়। তুর্কিরা পোতাশ্রয়জুড়ে নৌকা দিয়ে ভাসমান
সেতু বানিয়ে নিজেদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। এভাবে প্রোতাশ্রয় এবং
&ণ উভয় দিকের দেয়ালের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ইস্তাুলের বাইজেন্টাইনের প্রতিরক্ষার জন্যে চৌদ্দ মাইল দেয়ালের অংশ

থিওডোসিয়াস দেয়াল । ১৪৫৩ সালে শহরটি অটোমানরা দখল করার অনেক
পরের চিত্র এটি ৷ বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয় মিনার সমূহ ।

কিন্তু নৌপথের এই বিজয় সহসাই কোনো স্থলপথের বিজয়ের সৃষ্টি করতে
পারেনি । ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষাকারীদের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হতে থাকে।
পশ্চিমা খরস্টান বিশ্ব থেকে কোনো সহায়তা না আসায় কেউ কেউ সমতটকে
প্ররোচিত করতে থাকে বাইরে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

কিন্তু সম্রাট নিজের জনগণ, সিংহাসন, ঈশ্বরের গির্জাসূহকে এ
অরাজকতার মাঝে ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন।

প্রায় সাত সপ্তাহ অবরোধ করে রাখার পরও আধুনিক অস্ত্রাদি থাকা সত্তেও
কোনো তুর্কি সৈন্য শহরের দেয়ালের ওপর পা ফেলতে পারেনি। এ অবস্থায়
প্রধান উজির হালিল দূত মারফত সম্রাটের কাছে বার্ষিক মোটা অক্কের করের
বিনিময়ে শান্তির প্রস্তাব করেন। অথবা শহর খালি করে দিতে হবে।
পেলোপনিসে সম্রাটকে একটি রাজ্য দেওয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু সম্রাট
উভয় প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে সুলতান গর্জে উঠেন। আত্মসমর্পণ
ব্যতীত গ্রিকদের আর কোনো সুযোগ দিতে তিনি নারাজ। হয় তরবারির
আঘাতে মৃত্যুবরণ করো, নয়তো ইসলামে ধর্মান্তরিত হও ।

সুলতান মে মাসের উনত্রিশ তারিখে সবশেষ ভয়ংকর আক্রমণের
পরিকল্পনা করেন। সৈন্যদের এই বলে উৎসাহিত করেন যে শহরের সম্পত্তি
তাদের মাঝে সমবন্টন করা হবে। শুধু দালান এবং দেয়াল সুলতানের নামে
থাকবে। সৈন্যরা উৎসাহিত হয়ে রাত জেগে পরিখা নির্মাণ করে। উল্লাসে
চিৎকার করে এসব দেখে শুনে গ্রিকদের হাঁটু গেঁড়ে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু
করার থাকে না। সবকিছুর ওপর ঝটিকা পরিদর্শন শেষে সুলতান নিজের
মন্ত্রিপরিষদের সাথে বসেন। নিজের সৈন্যদের কাছে সাহস এবং নিমানুবর্তিতার
আশার কথা জানান।

নিজের সৈন্যদের সাথে কথা বলতে গিয়ে সম্রাট জানান একজন মানুষকে
সবসময় তার বিশ্বাস, দেশ, পরিবার এবং সার্বভৌমত্ের জন্য মৃত্যুবরণ করার
জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন সময় এসেছে এ চার ক্ষেত্রকেই মৃত্যুবরণ করে
হলেও রক্ষা করার। নিজের সৈন্যদের কাছে প্রাচীন গ্রিক এবং রোমান বীরদের
ন্যায় বীরত্বের আশার কথা জানান।

১৪৫৩ সালের ২৯ মে শুরু হয় সুলতানের আক্রমণ। বিশৃজ্ঘলা ও
হট্টগোলের মাধ্যমে কামানের গোলা গর্জে ওঠে। বাদকেরা যুদ্ধের দামামা
বাজিয়ে ওঠে, দেয়ালের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে থাকে

ধদেহী সেনাপ্রধানরা । তৎক্ষণাৎ পাহারাদাররাও গির্জার ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
সারা শহর জেনে যায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে। পুরুষেরা তাদের নিজ নিজ পোস্টে
ছুটে যায় যুদ্ধ করতে, মহিলারা হাতে পাথর তুলে নেয়। শিশু ও বৃদ্ধরা গির্জার
আঙিনায় একত্রিত হয়ে প্রার্থনা শুরু করে।

৮৬

এরই মাঝে দেয়ালের পাশে সুলতানের আক্রমণ তিনবার সফল হয়।
প্রথমে ছিল অস্থায়ী সৈন্যদল, প্রায় দুই ঘণ্টা যাবত যুদ্ধ করে তারা
প্রাথমিকভাবে শত্রুকে ভয় পাইয়ে দেয়।

এরপর আসে সশস্ত্র এবং সুদক্ষ আনাতোলিয়ার সেনাবাহিনী । গির্জার
সংকেত আবারো বেজে উঠার পরপরই এর শব্দ ঢেকে যায় দেয়ালের ওপর
সৈন্যদের ঝনঝন শব্দে। আনাতোলিয়ার সৈন্যরা যদিও পাথর বৃষ্টির সম্মুখীন
আঘাত হানে। সৈন্যরা হইহই করে সেই ফাক গলে ঢুকে যায়। কিন্তু সম্রাট
স্বয়ং থিকদের নিয়ে এদের প্রতিহত করেন। বেশির ভাগ সৈন্যকে কচুকাটা
করে বাকিদেরকে পরিখার কাছে ফিরতে বাধ্য করেন।

সুলতান একই সাথে
সৈন্যদের প্রশংসা এবং ভর্সনা দুটোই করেন। এরপর সময় আসে যুদ্ধে
জানিসারিসদেরকে ব্যবহার করার । যুদ্ধের প্রধান আক্রমণের জন্য এদেরকে
সংরক্ষিত রেখে ছিলেন সুলতান । জানিসারিসরা সময় আসতেই সারিবদ্ধভাবে
এগিয়ে যায় রণসংগীত গাইতে গাইতে । মাহমুদ চিৎকার করে তাদেরকে
উৎসাহিত করতে থাকেন। কিন্তু হাতাহাতি যুদ্ধের এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও
তারা তেমন আগাতে পারেনি । অন্যদিকে খ্রিস্টানরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে একই
উদ্যম নিয়ে লড়াই করে চলেছে।

coming soon

Leave a Comment