কুরুলুস উসমান ভলিউম ৮৪ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ১৩

শহরটি দখল করার পরপরই সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ
এটি নির্মাণ করেন ও পরের শতাব্দীতে এ বাজার আরো বিস্তৃত হয় ৷ আলমে*র
অঙ্কিত চিত্রে প্রধান “এভিনিউ’ ও পথের দু’ধারের দৌকানসমূহ দেখা যাচ্ছে ।

বিজয়ী মাহমুদ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন যে শহরের বৃহৎ অংশ ধনী
এবং সংস্কৃতমনা অ-মুসলিম সম্প্রদায় হিসেবে গ্রিকরা সাম্রাজ্যের জন্য সম্পদ ।
অন্যদিকে গ্রিক শিক্ষার প্রতিও তার অনুরাগ ছিল। ঘ্িক ইতিহাস শিক্ষা
নিয়েছিলেন মাহমুদ ৷ এমনকি তার নিজের রক্তেও গ্রিক মায়ের ভূমিকা ছিল।

তাই গ্রিক গির্জার ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রধানকে নিয়োগ করেননি মাহমুদ ।
১৪৫৪ সালের জানুয়ারি মাসে শ্ত্রিক প্রধান হিসেবে জেনোডিয়াসকে অভিষিক্ত
করেন সুলতান। জোনোডিয়াস বাইজোন্টাইন সম্রাটদের আমলে প্রাপ্ত সকল
সুযোগ-সুবিধা পূর্বের মতোই ভোগ করত। ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক অনুষ্ঠানে
সুলতান জেনোডিয়াসকে রোব, রুপার কাজ করা নতুন ক্রুশ প্রদান করেন।
বাইজেন্টাইন সম্প্রদায়ের ওপর বিশেষ অধিকার, তিন ক্ষেত্রে পাশা-র মর্যাদা
লাভ করে জেনোডিয়াস। যথাযথ অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে অভিষেক কর্ম সম্পাদিত
হয়। হাগিয়া সোফিয়া, মসজিদে পরিণত হয়। সাদা ঘোড়ায় চড়ে শহর
প্রদক্ষিণ শেষে হলি আ্যাপোসেলস্‌ গির্জার অংশে নিজের বাসভবনে ওঠে
জেনোডিয়াস।

মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পর হাগিয়া সোফিয়ার নামকরণ হয় আয়া
সোফিয়া এবং এর গম্বুজের ওপর রাখা ক্রুশটি সরিয়ে মক্কা অভিমুখী অর্ধচন্দ্র
নির্মাণ করা হয়।

নতুন গ্রিক প্রধান পোপের বিরুদ্ধে গ্রিক অর্থডক্স গির্জার রক্ষক এবং
পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতানকে মর্যাদা দেন। জেনোডিয়াসের ক্ষমতা এবং
সম্মান এতটাই বেড়ে যায় যে তাকে অনেকটা গ্রিকদের পোপে ভূষিত করা
হয়। জেনোডিয়াসের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমে ধর্মতত্ব ও খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে
সুলতানের জ্ঞান অন্বেষণের ইচ্ছা পূরণ হয়। সুলতানের অনুরোধে জেনোডিয়াস
অর্থডক্স গির্জার একটি বিশ্বাস বাণীকে তুর্কিতে রূপান্তরিত করে দেয়। এর
হবেন।

পরবর্তীতে পোপ দ্বিতীয় পিউস সুলতানের কাছে ক্যাথলিক মতবাদের
গভীর বিশ্বাস তুলে ধরে দীক্ষাপ্রান গ্রহণের প্রস্তাব করেন। পোপ আরো জানান,
এর মাধ্যমে সুলতান পোপের নিরাপত্তা বলয়ে থেকে খ্রিস্টান রাজকুমারে
পরিণত হবেন । কনস্টান্টিনোপলে এক গ্রিক দার্শনিক সুলতানের কাছে ইসলাম
এবং খ্রিস্টান ধর্মের সাদৃশ্য তুলে ধরে উভয়কে একই ধর্মের ছায়াতলে নিয়ে
আসার কথা বলে।

কিন্ত এ ধরনের কোনো উদ্যোগই সুলতানের ওপর কোনো প্রভাব
ফেলেনি। নিজেকে তিনি খলিফাদের উত্তরসূরি হিসেবে আল্লাহর ইচ্ছা
পালনকারী হিসেবেই দেখতেন। আত্মিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে ইসলামের

অনুসারী হলেও অর্থডক্স খ্রিস্টানদের সভ্যতা রক্ষায় ছিলেন সমান আগ্রহী ।
পিতার মতোই খ্রিস্টানদের প্রতি সব সময় সহনশীল ছিলেন।

ধর্মীয় বিষয়ে সহনশীল হলেও রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত অবস্থায়
সুলতান ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার নির্মম, নিষ্ঠুর একজন মানুষ । শহর জয় করার পর
সম্রাটের অনেক মন্ত্রীদেরকেই সুলতান নিজের বন্দিত্ থেকে মুক্তি দান করেন।
এদের মধ্যে ছিল মেগাডাক্স, লুকাস নোটারাস। প্রথম প্রথম সুলতান
নোটারাসকে শ্রদ্ধা করতেন। এমনকি শহরের গভর্নর বানিয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু কোনো এক ঘটনার ফলে সুলতান সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠেন। এর
পরীক্ষাস্বরূপ সুলতান যার কিনা ওয়াইনের আসক্তি ছিল এবং যৌনরুচি ছিল
পুত্রকে পাঠাতে বলেন সুলতানের মনোরঞ্জনের জন্য। কিন্তু নোটারাস
প্রত্যাখ্যান করলে তৎক্ষণাৎ তার এবং তার পুত্র ও পৌত্রের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা
করেন সুলতান। এবং এই তিন মস্তককে সুলতানের সামনে হাজির করার
কথাও বলা হয়। নোটারাস আর্জি জানান যেন ছেলেদের মৃত্যু পিতার পূর্বে
হয়, যেন তারা নোটারাসের মৃত্যু দেখে খ্রিস্টানের মতো মারা যাওয়ার সাহস
না হারিয়ে ফেলে । এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় প্রাক্তন সম্রাটের অন্যান্য কর্মচারীকেও
পথ থেকে সরিয়ে দেন সুলতান ।

এরই মাঝে নোটারাস হালিল পাশী’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করে
যায় সুলতানের কাছে। সুলতান নিজেও এ ব্যাপারে খানিকটা আচ করতে
পেরেছিলেন। হালিলকে ভাই ত্যারেস্ট করে আদ্রিয়ানোপলে ফেরত পাঠানো
হয়। এখানে একদিন হালিলের বাসার সামনে একটি হরিণ বাধা দেখতে পেয়ে
সুলতান মন্তব্য করেন, “হে বোকা পশু হালিলের কাছে কেন তোমার মুক্তি
ভিক্ষা চাও না?” হালিল এ মন্তব্যে নিজের ভাগ্য সম্পর্কে ভয় পেয়ে মন্কায়
ধর্মযাত্রার আবেদন করেন। শীঘ্রই তাকে মেরে ফেলা হয়। এভাবে বাল্যকাল
থেকে চলে আসা শক্রুর হাত থেকে মুক্তি লাভ করেন মাহমুদ । এরপর পিতার
আমলে থাকা অন্যান্য কর্মচারীদেরকেও বরখাস্ত করেন মাহমুদ । নতুন উজির
হয় জাগানোস পাশা ।

সুলতানের সবচেয়ে প্রধান কাজ ছিল পৃথিবীর রাজধানী হিসেবে গড়ে
তোলার জন্য ইস্তাম্বুল শহরকে নতুন জন্মদান করা। এর মাঝে প্রধানত
ছিল জনসংখ্যার সমস্যা । প্রায় ত্রিশ থেকে চলিশ হাজার ছিল অধিবাসী ।
মুদ্ধের ফলে শহরের বেশির ভাগ প্রাসাদ এবং দালানকোঠা ধ্বংস হয়।
খুব দ্রুত রাস্তা থেকে আবর্জনা পরিক্ষার করে দেয়ালগুলো মেরামত করা
হয়। অর্থডক্স খ্রিস্টান, যারা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল তাদের ফিরে
আসতে বলা হয়।

তাদের সম্পদ ও ধর্মের নিরাপত্তা, কর মওকুফ এমনকি গৃহ মেরামত ও
দোকান মেরামতের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যের কথাও বলা হয়। তুর্কিদের হাতে
বন্দিদের মুক্তি দিয়ে পানার জেলায় বসতি স্থাপন করে কিছু সময়ের জন্য কর
মওকুফের কথাও বলা হয়। কুমালিয়া এবং আনাতোলিয়া উভয় প্রদেশের
গভর্নরদের বলা হয় খ্রিস্টান অথবা মুসলিম যাই হোক না কেন চার হাজার
পরিবারকে ইন্তাম্থল পাঠাতে । বিভিন্ন সফল অভিযানের মাধ্যমে ধরে আনা প্রায়
ত্রিশ হাজার কৃষককে ইস্তাম্থলের আশপাশের গ্রামসমূহ স্থাপন করা হয় শহরের
খাদ্য উৎপাদনের জন্য।

সুলতানের আদেশে বিভিন্ন শহর থেকে ব্যবসায়ী, কারিগর প্রভৃতি শ্রেণীর
লোকদেরকে ইস্তাম্বুলে আনা হয় শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য।
এদের মধ্যে ছিল সালোনিকা ও ইউরোপের জিউ সম্প্রদায় । পরবর্তী পঁচিশ
বছরের মধ্যে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের পরে শহরের তৃতীয় গুরুতপূর্ণ
উপাদানে পরিণত হয় এ জিউরা।

Leave a Comment