কুরুলুস উসমান ভলিউম ৮৫ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ২৫

মাহমুদের রাজত্কাল শেষ হওয়ার অনেক পূর্বেই এ শহর আবারো বিভিন্ন
ওয়ার্কশপ ও বাজারে ঝকমক করে ওঠে । ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেড়ে যায় এবং
জনসংখ্যা হয়ে ওঠে যুদ্ধের সময়কার তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি এবং
মিশ্র গঠনের। পরবর্তীতে একশ বছরের মাঝে এর অধিবাসী হয়ে দাঁড়ায় অর্ধ
মিলিয়ন, যাদের মাঝে বেশি ছিল তুর্কি।

অর্থনৈতিক জীবনের সমৃদ্ধির জন্য মাহমুদ ছিলেন বেশি উদ্যোগী। এই
উদ্দেশ্যে ব্যাপক হারে এঁতিহ্যগত ইসলামিক প্রতিষ্ঠান, ইমারত তৈরি করা
হয়। বার্সা এবং আদ্রিয়ানোপলে এটি পূর্ব থেকেই ছিল। এখন ইস্তাম্থুলেও
তৈরি করা হয় বাজার এবং সরকারি কাজের সম্প্রসারণের জন্য । বস্তুত এটি
ছিল ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক কাজের জন্য সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠান।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রই হতো এর পৃষ্ঠপোষক ।

যদিও বা কখনো ব্যক্তিগত
উদ্যোগে অনুদান দেয়া হতো, তথাপি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকত বেশি, এর
চারপাশে থাকত সরকারি দালান। একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে এসব স্থাপনা
গড়ে উঠেছিল। এর একদিকে যেমন ছিল হাসপাতাল, মাদ্রাসা এবং
ভ্রমণকারীদের জন্য ছাত্রাবাস অন্যদিকে বাজার, কারখানা, স্ানঘর, লক্দ্ি,
কসাইয়ের দোকান, সরাইখানা, স্যুপ রান্নাঘর প্রভৃতি ছিল ধর্মীয় উদ্দেশ্যকে
অর্থ জোগানমূলক কাজ করার জন্য।

আয়া সোফিয়ার জন্য মাহমুদ বেদেস্তান বা বাজার তৈরির নির্দেশ দেন।
এখানে ছিল একশটি দোকান ও স্টোর। এর পাশাপাশি রাস্তায় ছিল আরো
হাজারখানেক দোকান । কার্যত এটি ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র। মাহমুদ
নিজের যে বিশাল মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তার চারপাশে প্রতিদিন ছয়

খাজার ছেলেমেয়ে শিক্ষা গ্রহণ করত, ভ্রমণকারীদের জন্য দুটি ছাত্রাবাস,
গরিবদের মাঝে খাবার বিতনের জন্য রান্নাঘর, হাসপাতাল-__যেখানে ছিল
চোখের ডাক্তার, শল্যবিদ, ডাক্তারের নির্দেশানুবায়ী রান্না করার জন্য পাচক।

সুলতান নিজের রাজ্য থেকে শ্রেষ্ঠ মানুষদের এনে শহরের অন্যান্য
অংশেও এভাবে ইমারত নির্মাণ করেন। এভাবে জনসাধারণের উন্নতির জন্য
ক্যারাভান চলাচল করে এমন সব রাস্তার পাশেও এসব ইমারত নির্মিত হয়।
ব্যবসা বাড়তে থাকে এবং এভাবেই অবশেষে ইস্তাম্বুল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ বাণিজ্য
স্থান হিওসবে বার্সা ও আদ্রিয়ানোপলকে অতিক্রম করে। কৃষ্ণসাগর,
উমধ্যসাগর এবং এশিয়া মহাদেশেও বাণিজ্যিক পথসমূহ নিয়ন্ত্রণ করা শুরু
করে।

ইসলামিক অর্থনৈতিক জীবনের আরো একটি এতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের
ওপর সুলতান মাহমুদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে উৎসাহিত করেন; যা ছিল শ্রমিক
সংস্থা বা শ্রমিক ইউনিয়ন। একে ঘিরে আর্বত হতো সব পেশাজীবী লোক।
গ্রক রোমান বিশ্বে জন্মলাভ করে ইউরোপে পরিচিত থাকলেও ধীরে ধীরে
এসলামেও পরিচিত হতে থাকে। পূর্বের অটোমান সমাজে আখিদের
নেতৃত্বাধীনে এরা গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এবং শ্রমিক ও কারিগরদেরকে
গাজনৈতিক নিরাপত্তা দান করত। ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ শ্রমিক সমাজের
শ্রেণী বিভাজন করা হতো ।

প্রতিটিতে একজন নেতা থাকত, প্রতিনিধি হিসেবে
যে সরকারের কাছে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পেশ করত । যদিও এদের ওপর
শা্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্ত এগুলো রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ থাকতো বিভিন্ন
পিষয়ে। যেমন শ্রম দাম, লাভের পরিমাণ, গুণগত মান, হঠকারিতা রোধ
রা প্রভৃতি। রাষ্ট্র এদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করলেও
ওনসাধারণ ও রাজকোষের নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে সরকার মাথা ঘামাত।

নগরায়ণ এবং বাজার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এই সমাজ
এবস্থাও অটোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পশ্চিমের সাথে
এ।ণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়, যা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম উপাদানে পরিণত
হো। ধীরে ধীরে এ সাস্রাজ্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে বাণিজ্যিক যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে; যার
ধলে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানও শুরু
হ।

যাযাবর বৃত্তি থেকে ধীরে ধীরে ইসলামিক সাম্রাজ্যে পরিণত হওয়া এ
শাষ্ট্ের জনগণ এবং সম্পদের একটাই কাজ ছিল আর তা হলো শাসকের শক্তি
শংরক্ষণ করা। জনগণ প্রধানত দুভাগে ভাগ ছিল। তাদের এক অংশ
নতানের শাসনকাজের প্রতিনিধিত্ব করত-_ প্রশাসক, সেনাবাহিনী, ধর্মীয়

গুরুরা। অন্যদিকে ছিল রায়া সম্প্রদায়। কৃষক এবং এক শ্রেণীর কারিগর ।
এরাই ছিল উৎপাদনকারী ও কর প্রদানকারী । সামাজিক ও রাজনৈতিক শৃডখলা
বজায় রাখার জন্য এদের উৎপাদন পদ্ধতি ও লাভের পরিমাণের ওপর কঠোর
সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকত। এটি নিশ্চিত করার জন্য খুব কঠোর একটি যুক্তি মানা
হতো- প্রত্যেক মানুষই তার নিজের শ্রেণীতে বাস করবে।

এর বাইরেও তৃতীয় এক শ্রেণীর মানুষ ধীরে ধীরে গুরুতৃপূর্ণ হয়ে উঠতে
থাকে। বণিক শ্রেণী, যারা এ ধরনের আইনি এবং সামাজিক বিধি-নিষেধের
উধের্ব ছিল। আর এরাই একমাত্র পুঁজিপতি হতে পারত । এরা ছিল বড় বড়
ব্যবসায়ী, যারা লাভের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে ব্যবসা করত, বহু দূর
থেকে পণ্য আমদানি করত। পঞ্চদশ শতাব্দীর এ অংশে বাণিজ্য নিয়ে
সুলতানের উদ্িগ্নতার কথা পাওয়া যায় সিনাল পাশার রচনায়!

মাহমুদ শহরের
দেয়ালসমূহ পুনরায় নির্মাণ ও সুরক্ষিত করার কাজ শুরু করেন। তার লক্ষ্য
ছিল স্থাপত্যবিদ্যার ক্ষেত্রে বাইজেন্টাইন আমলের থেকেও সুন্দর করে এগুলো
নির্মাণ করা। এমনকি নিজের মসজিদ নির্মাণেও তিনি ততটা সময় ব্যয়
করেননি । একজন গ্রিক স্থাপত্যবিদকে নিয়োগ দিয়ে হলি আযাপোসেলস-এর
জন্য মালামাল ও জায়গা নির্বাচন করেন। মাহমুদের নিজের মসজিদে আয়া
সোফিয়ার আয়তনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং এ নিয়ে তিনি বেশ গর্ববোধ
করতেন। এটি ছিল বিশাল গম্বুজ, মসজিদের মাঝে প্রথম এবং পরবর্তী
শতাব্দীগুলোতে ইনস্তাস্থলের গৌরবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল । প্রথম
দিকে হাণিয়া সোফিয়ার বাইজেন্টাইন রীতি থেকে অনুপ্রাণিত হলেও ধীরে
ধীরে নতুন স্থাপত্যরীতির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব শহর হিসেবে খরিস্টানদেরকে
অতিক্রম করে।

মাহমুদ ইয়ুব মসজিদের ভিত্তিপরস্তরও স্থাপন করেছিলেন। নবীজির সঙ্গী,
যিনি এসব দেয়ালের পাশে মৃত্যুবরণ করেন এবং লাগাতার অনুসন্ধানের
মাধ্যমে তীর কবর পাওয়া যায়। এর পরবর্তী কাজ ছিল সম্রাটের প্রায় ধ্বংস
হয়ে যাওয়া প্রাসাদ মেরামত করা । মাহমুদ নিজের জন্যে বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ
করে আড্রিয়ানোপল থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন ।

নিজের সাম্রাজ্যকে একত্রিত করে সীমান্ত সম্প্রসারণ করা। সমুদ্রের দিকে
সুলতানের ছিল বিশাল দুর্গবিশিষ্ট পোতাশ্রয়, এর নৌশক্তিও ছিল ব্যাপক।
এরপর দার্দেনালিস, এর উভয় প্রান্তে নতুন দুর্গ তৈরি রুরা হয়। সুলতান

Leave a Comment