বারবারোসলার(বারবারোসা)পর্ব ৬ বাংলা সাবটাইটেল – Barbaroslar Bangla Subtitles

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ৬

নিজের কিছু দুর্বলতার জন্য ও যথাযথ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। ইতিমধ্যে
তার নিজের বাহিনীর শক্তিও বৃদ্ধি পায়। একদা আর্তঘরুলের আমলের মাত্র
৪০০ যোদ্ধা সময়ের সাথে বেড়ে দীড়ায় চার হাজার যোদ্ধার এক বিশাল
বাহিনীতে । এছাড়া সৈন্য সংগ্রহের আরো কিছু উৎস ছিল । যেমন-_ প্রতিবেশী
অঞ্চলসমূহের বেকার সৈন্যরা এদের মধ্যে বস্তুত ছিল গ্রিক সৈন্যরা যাদের
বেশির ভাগই দল বদলে প্রস্তুত ছিল। একাজে তাদের উদ্ুদ্ধ করেছিল
কনস্টান্টিনোপলের কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা, করের বোঝা আর
উৎপীড়ন।

চতুর্শি শতাব্দীর প্রথম বছরে এসে ক্ষমতায় আরোহণের বারো বছর পরে
ওসমান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কমন
হিসারে । নিকোমিডিয়ার সামনে অবস্থিত একটি উর্বর
উপত্যকায় অটোমানদের লুগ্ঠনকাজের মোকাবেলা করতে এসে গ্রিকরা সহজেই
হেরে যায় দ্রুত গতি আর তৎপর তুর্কমানদের কাছে।

এক সাধারণ তুর্কমান
নেতার কাছে রাজ-সেনাবাহিনীর এই পরাজয়ে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে উদধিগ্নতা
ছড়িয়ে পড়ে । আর এর ফলে ওসমানের অঞ্চলকেও বিবেচনা করা শুরু হয়।
এর ফলে তার সুখ্যাতি বেড়ে যায়। আর এই কারণে আনাতোলিয়ার চারপাশে
থেকে পবিত্র যোদ্ধারা ওসমানের কর্তৃত্র ছায়ায় আসতে শুরু করে, গর্বভরে
নিজেদের ওসমান অনুসারী পরিচয় দিতে থাকে । ফলে ওসমানের মতবাদ
এবার সত্যিকারভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

কিন্তু এতে উৎসাহী হয়ে ওসমান তৎক্ষণাৎ নিকোমিডিয়ার বিরুদ্ধে
কোনো আক্রমণ শুরু করেননি । তার সৈন্যরা নিজেদের চারপাশ নিয়েই
সন্তুষ্ট ছিল। সাত বছর পার হয়ে যায় যখন ওসমান নিজেকে যথেষ্ট
শক্তিশালী অনুভব করেন এবং আর্ক হিসারের দুর্গ আক্রমণ করেন।
নিকোমিডিয়ার পেছনে সার্কাযা নদীতে আক্রমণ পরিচালনা করেন ।

আর এই বিজয়ের ফলে অটোমানরা সমুদ্রপথে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা পেয়ে
যায়। প্রথমবারের মতো তারা বসফরাসে প্রবেশ করে । ধীরে ধীরে এর
পূর্বে কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর ও দুর্গ দখল করে নিতে থাকে এবং
অবশেষে কালোলিমিনি দ্বীপ অধিগ্রহণের জন্য মারমারা সাগরে প্রবেশ
করে। এভাবে ওসমান বার্সা নিকোমিডিয়া থেকে সমুদ্রযাত্রার পথে বাধা
স্থাপন করে।

এমনকি এই দুই শহরের মধ্যবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়।
একে অন্যের কাছ থেকে বিভক্ত হয়ে পড়ে । এরপর স্থুলপথে বার্সাকে আক্রমণ
করা হয় এবং ১৩২৬ সালে এসে বার্সা অটোমানদের অধিকারে আসে এবং
ওসমান মৃত্যুবরণ করেন।

২৪

সাত বছরের মধ্যে শক্রদের হাতে শহরতলী চলে যাওয়ায় কনস্টান্টিনোপলের
কাছ থেকে গ্রিক দুর্ঘসমূহ সহায়তার আশ্বাস হারিয়ে ফেলে । রাজবংশের মঝে শুরু
হয় দ্বন্ব। ফলে সেনাপ্রধান ইভারনস্‌ অন্যান্য নেতৃত্স্থানীয় গ্রিকদের
জম্মতিক্রমে শহরকে সমর্পণ করে এবং ইসলাম গ্রহণ করে। এখানে
অলিম্পাস পর্বতের উর্বর ভূমিতে অটোমানরা তাদের সাম্রাজ্যের প্রথম
রাজধানী তৈরি করে। ধীরে ধীরে একে উন্নত করে এবং গঠনরীতি,
স্থাপত্যবিদ্যা প্রভৃতি দিয়ে সমৃদ্ধশালী করে তোলে, যা হয়ে ওঠে কলা এবং
বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রে সভ্যতার কেন্দ্র।

ইউরোপে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির পর এ
রাজধানী উঠে অন্যত্র স্থাপিত হয়। কিন্তু এটি সব সময় ছিল অটোমান
সাম্রাজ্যের পবিত্র শহর । সবকিছুর উধ্র্বে এখানে ছিল ধর্মীয় বিদ্যালয় আর
এর ইসলামি আইন ও এঁতিহ্যের কারণে এটি উলেমাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে
ওঠে । মুসলমান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান) ।

গাজীদের তুলনায় মুক্ত এবং অর্থডক্সবিহীন যোদ্ধা মনোভাবের কারণে এই
উলেমা সম্প্রদায় পুরাতন ইসলামের এঁতিহ্য বহন করে চলত আর এভাবেই
তারা অটোমান অঞ্চলসমূহে পথনির্দেশ অথবা অবরোধ আরোপের ক্ষেত্রে
প্রধান প্রভাব খাটাত।

এই বার্সাতেই ওসমানকে সমাহিত করা হয়। তার সমাধিসৌধটি ছিল
সমুদ্রের ওপর দিয়ে কনস্টান্টিনোপলের দিকে তাকিয়ে আছে এমন আকৃতির ।
পূর্বপুরুষদের সমাধিসৌধসহ এ জায়গাটি হয়ে ওঠে একটি মুসলিম তীর্থস্থান ।
সমাধিসৌধে অটোমান সিংহাসনের সব উত্তরাধিকারীর প্রতি উচ্চারিত হয়েছে
একটি বাণী : “আশা করা যায় যে ওসমানের মতোই ভালো হবে ।”

প্রথম দিককার মুসলিম এঁতিহ্যের মাঝে তিনি ছিলেন প্রকৃতই একজন
ভালো মানুষ । নিজের পুত্রকেও বলে গেছেন যে, “ন্যায়বিচার করো এবং
এভাবেই পৃথিবীকে সঙ্জিত করো। আমার বিদেহী আত্মাকে আনন্দ প্রদান
করো বিভিন্ন বিজয় দ্বারা….নিজের বাহু দিয়ে ধর্ম রক্ষ করো। সম্মান করতে
শেখো যার ফলে স্বর্গীয় আইন প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এঁতিহাসিকভাবে ওসমানের ভূমিকা ছিল একজন গোত্রপ্রধান হিসেবে
জড়ো করেছিলেন এক জনগোষ্ঠী। তার পুত্র অর্থান এই জনগোষ্ঠীকে
দিয়েছিলেন একটি রাষ্ট্র এবং তার পৌত্র এই রাষ্ট্রকে পরিণত করেছেন
সাম্রাজ্যে ।
ওসমানের বংশধরদের এই রাজনৈতিক অর্জন সম্পর্কে উনিশ
শতকে একজন অটোমান কবি এভাবেই জয়গান করেছেন_ “একটি গোত্র
থেকে ওঠে পৃথিবী বশীভূত করার শক্তি গড়ে তুলেছিলাম আমরা ।”

অলিম্পাস পর্বত এবং বুসা: পশ্চিম আনাতোলিয়া সম্পূর্ণভাবে থাস করার পর
অলিম্পাস, পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত ক্রুসা বা বার্সা, নগরী হয় অটোমান রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী ।

রাষ্ট্র এবং সাম্রাজ্য তৈরি করার ক্ষেত্রে অটোমানরা গাজীদের সামাজিক ও
এতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঝণী। এই এঁতিহ্যের ভিত্তি তাদের নীতির ওপর
প্রতিষ্ঠিত সম্প্রদায়ভিন্তিক জীবন । গুণগত আচরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার
মনোভাব বা ভ্রাতৃসংঘ। প্রাথমিক ধর্মের উদ্দেশ্যে তারা কিছু বস্তু নিরপেক্ষ
ভাবধারা গ্রহণ করেছিল। সেখানে ছিল না কোনো কঠিন রহস্য (প্রচলিত
ধর্মবিশ্বাসের বাইরে), এটি ব্যবহারিক এবং বস্তুগত উভয় আকার ছিল শহরে,
বণিক এবং কারিগরদের একই মর্যাদা ছিল। এভাবে গড়ে ওঠে সহভ্রাতৃত্‌ বোধ
যাদের মাঝে ধর্ম এবং যুদ্ধ নিয়ে একই রকম উন্মাদনা কাজ করত। শক্তিশালী
প্রমাণের মাধ্যমে তারা নাইট পদমর্ধাদাকে জনপ্রিয় করে তোলে । এভাবে
পারস্পরিক কিছু নীতি মেনে চলত, চলতে বাধ্য করত আরেকটি জায়গায়
একত্রিত হয়ে নীতি নির্ধারণ করত। যা প্রথম রহস্যময় ইসলামি আমলের
রহস্যময় ভ্রাতৃসংঘের তুলনায় ভিন্ন ছিল।

 

৭২০ রেজুলেসন

১০৮০ রেজুলেসন

Leave a Comment