বারবারোসলার(বারবারোসা)পর্ব ২ বাংলা সাবটাইটেল – Barbaroslar Bangla Subtitles

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ২

সূচনা

বহু শব্দান্দি ধরেই তৃর্কিস্তান আর এর আশপাশ সংলগ্ন চীন সীমানা থেকে উচ্চ
ইউরেশিয়ানের অনূর্বর ভূমির পশ্চিম দিক বরাবর যাযাবর বা গৃহহীন মানুষরা
চলাচল করত। এদের বেশির ভাগেরই পেশা ছিল পশুপালন ও দেখাশোনা,
উট চালানো ও ঘোড়া পালন করা। এরা একত্রে তাবুতে বাস করত। গোত্রের
মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক পশু লালন-পালন করত ।

যার মাধ্যমে নিজেদের খাবার
আর কাপড়ের সংস্থানও করত। আর এভাবেই বিভিন্ন খতু অনুযায়ী পশু পালন
করত। আর সময়ে সময়ে আরো ভালো বাসস্থান অথবা পশ্চাদবর্তী কোনো
গোত্রের আক্রমণের হাতি থেকে বাচার জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়
দল বেঁধে যাত্রা করত। মাঝে মাঝেই তাদের গবাদি পশ্ড থেকে উৎপন্ন
দ্রব্যসমূহ শহরের মানুষ বা কৃষিজীবীদের কাছে বিক্রিও করত।

আবার মাঝে
মাঝে নিজেদের চাষবাষের খাতিরে কোনো নদী বা পানি আছে, এমন জায়গায়
বসতি স্থাপন করত। কিন্তু এ রকম খুব কমই হতো। আর এভাবেই
একধরনের যাযাবর লোকেরা তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আর জন্মসূত্রে পাওয়া
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গিয়েই গোত্রীয় সমাজ গড়ে তুলেছিল। এর
মাধ্যমেই তারা তাদের দক্ষতা, উৎসাহ আর বিভিন্ন প্রথার ব্যবস্থা করত
আপাতদৃষ্টিতে সরল সম্মিলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে ।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বলশালী হিসেবে পরিচিত ছিল তুর্কিরা। চীনদেশীয়
আর অন্যান্য প্রতিবেশীদের কাছে এরা পরিচিত ছিল তু-কৃচ অথবা দুর্কো।
একটি যোদ্ধা জাতি যাদের নামকরণ হয়েছে তাদের দেশে অবস্থিত একটি
পাহাড়ের নামানুসারে যেটির আকৃতি দেখতে হেলমেটের মতো (মাথার
শিরন্ত্রাণ)। এটি এক অর্থে সুস্পষ্ট যে হান্‌ (নটাব)-দের মতোই তুর্কিরাও
মঙ্গোলদের সগোত্রীয় বা সদৃশ, যারা কিনা পরবর্তীতে ফিন (বাং) এবং
হাঙ্গেরিয়ান নামে পরিচিত হয় ।

খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে তারা তাদের মতোই আরেক জাতিকে জয় করে
নেয় মঙ্গোলিয়া নামক ভূমি শীসন করার অভিপ্রায়ে । আর এভাবেই তারা উত্তর,
দক্ষিণ আর পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত করে তোলে এক যাযাবর সাম্রাজ্য, একে

সর্ববৃহৎ যাযাবর সাম্রাজ্য নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে । দূরতৃ বেড়ে
যাওয়ায় এঁক্য-__খানিকটা কমে গেলেও তাদের মাঝে বজায় ছিল জাতিগত
আর ভাষাগত চারিত্রিক সাদৃশ। তাদের পারস্পকি পরিচয়ের চেতনাটি এতটাই
দৃঢ় ছিল যে, পৃথিবী, পানি, আগুন আর বাতাসকে পৌন্তলিকতা মতে পুজা
করার সময়েও প্রকৃতির এসব শক্তিকে তারা তুর্কি নামেই অভিহিত করত ।

আর এভাবেই খুব শীঘ্বই সাধারণ পশুপালন বৃত্তির উধের্ব ওঠে তুর্কিরা তাদের
পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। নিজেদের সভ্যতা গড়ে তোলে
শাসকদের দ্বারা, যারা কি না সাধারণ গোত্রীয় বয়োবৃদ্ধদের তুলনায় ছিল আরো
বেশি কিছু । এ শাঁসকেরা ধীরে ধীরে তাদের চেয়ে নিচু গোত্রদের শাসন করা
শুরু করে।

অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিকে, যে গোত্রটি পশ্চিম দিকে গিয়েছিল নাম ছিল
অগ্ডজ (92705), যাদের নেতৃত্‌ দিয়েছিল ধুসর নেকড়ে আর সেলজুক
গোত্রের প্রধানরা। তারা সমরকন্দ পৌছে পশ্চিম মধ্য এশিয়ায় নিজেদের
প্রাধান্য বিস্তারের জন্য ।

একই সময়ে এক নতুন জাতি ইসলামি খলিফা যুগের
আরবীয়রা উত্তর আর পূর্বে ছড়িয়ে পড়ে পারস্য সাম্রাজ্য জয় করার জন্য ।
এদের সামনে তুর্কিদের শক্তি প্রতিহত হয় কিন্ত সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক
সম্পর্ক অটুট রয়ে যায়।

উভয় গোত্রই তাদের ক্যারাভান যাওয়া-আসা করে
এমন রাস্তায় পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে বাণিজ্য করা বজায় রাখে । এ ক্ষেত্রে
তারা একে অন্যের গবাদি পশু আর উৎপন্ন কৃষি দ্রব্য ব্যবহার করত। এভাবেই
নবম শতাব্দী প্রবর্তী সময় থেকেই তুর্কিরা তাদের পৌত্তলিক বিশ্বাস বর্জন
করে ইসলামের দিকে ঝুঁকে যায়।

আরবীয়রা খুব দ্রুতই তৃর্কিদের যুদ্ধ কৌশল আয়ত্ত করে নেয় কিছু
নৈতিক গুণাবলি যেমন সহিক্চুতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দূরদর্শিতা ব্যতীত এ
ধরনের যাযাবর জীবন তাদের মাঝে জাগিয়ে তোলে যুদ্ধ করার প্রেরণা, স্থানান্তরের
অভ্যাস অশ্বারোহণের দক্ষতা, বিশেষ করে ঘোড়ার পিঠে বসে থেকেও তীর
চালানোর মতো দক্ষতা আয়ন্ত করে নেয় তারা ।

আব্বাসীয় খলিফা আমলের সেনাবাহিনীতে তুর্কিরা বিভিন্ন পদে আসীন
ছিল, দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ দাসেরাও পদমর্ধাদা পেয়ে মুক্তি লাভ করত
দাসত্ব থেকে! এদেরকে মোসলেম তুর্কি বলা হতো। এভাবে দেখা যায় নবম
শতাব্দীর শেষ নাগাদ আরব সাম্রাজ্যের বেশির ভাগ সামরিক উচ্চপদে আর
বিভিন্ন রাজনৈতিক অফিসে মোসলেম তুর্কিরা উচ্চপদে আসীন ছিল।

পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে যখন সাত্রাজ্যের পতন ঘটে, তখন সেলজুক
রাজপরিবার এ শুন্যতা পূরণে নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে! একটি
ইসলামিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে আব্বাসীয় খলিফা প্রথা অনুসারে, যার মাঝে তুর্ক-

বসখ।মিক মুল্যবোধও ছিল। আর পারস্যব্যাপী শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ
গ।াজা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় তীর এবং ধনুক ।

মেসোপটেমিয়া ও সিরিয়া এ সাম্রাজ্যের শাসনাধীন আসে । এভাবেই
‘অণুররি ভূমির যাযাবর জাতি এক ধরনের স্থায়ী পরিবেশ লাভ করে।

ইতিহাসের অন্যান্য যাযাবর জাতির তুলনায় হান এবং মঙ্গোলরা__
সেলজুক তুর্কিরা জীবনযুদ্ধ মোকাবিলার অধিক মাত্রায় স্থায়ী আর উৎপাদন
মনোভাবাপন্ন ছিল। নিজস্ব এঁতিহ্য, প্রথা আর প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে,
একটি সভ্যতা উৎখাতের মাধ্যমে তারা আবির্ভূত হয় সাম্রাজ্য প্রস্তুতকারীর
ভূমিকায়। জাতি গঠনের সাংগঠনিক দক্ষতায় এরা ইতিহাসে ইতিবাচক
ভাবনার প্রসার ঘটায় যার ফলে পুরাতন মোসলেম পৃথিবী সামাজিক,
অর্থনৈতিক ধর্মীয় আর বুদ্ধিবৃত্তিতে এক নতুন অগ্রযাত্রা শুরু করে।

অনুর্বর ডুমির এসব ভেড়াপালক আর যোদ্ধারাই পরিণত হয় শহুরে নাগরিকে।
প্রশাসক, খ্যবসারী, কারিগর, জমির ক্রয়-বিক্রয়কারী, রাস্তা নির্মাণকারী,
বিদ্যালয়, মসজিদ হাসপাতাল স্থাপনকারী, দর্শন, বিজ্ঞান, জ্ঞানের চর্চার
উৎসাহী হয়ে ওঠে, শিল্প এবং সাহিত্যেও উৎসাহী হয়ে ওঠে তারা । এসব
ক্ষেত্রে তারা পারস্য আর আরবদের অনুসরণ করা শুরু করে।

তথাপি কেন্দ্রীয় সেলজুক রাষ্ট্রের বাইরে রয়ে যায় এক বিশাল
স্বায়ত্তশাসিত তুর্কি জনগোষ্ঠী, যারা তখন পর্যন্ত যাযাবর হিসেবেই এক স্থান
থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। অন্যান্য গ্রাম গোত্রদের সাথে যাদের
অধিকাংশই ছিল পৌত্তলিক, এরা নির্দিষ্ট দলে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করত, যারা
ছিল সেলজুক যোদ্ধাদের অংশ ।

ক্রমে এরা এসে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের
অমার্জিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিরক্ত করা শুরু করে। রাষ্ট্রের বাইরেও একটি
পৃথক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এরা । এদের ছিল নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভিন্ন
মতবাদ । একত্রে এদের ডাকা হতো তৃর্কম্যানস নামে -এ
পদবি তাদের মুসলিম উপাদানের কারণেই হয়েছিল ।

এদের মাধ্যমেই পরবর্তীতে সূচনা হয়েছিল জনপ্রিয় এক আন্দোলন
যাদের পথিকৃৎ ছিল গাজীরা, আন্দোলনের নাম ছিল “পবিত্র বিশ্বাসের যোদ্ধারা”
স্বেচ্ছাসেবক, যাদের বেশির ভাগই ছিল
ভবঘুরে ৷ অস্থিরমতি, বিদ্রোহী আর চাকরিবিহীন লোকেরা, যাদের প্রয়োজন
ছিল সংস্থানের। তাদের ওপর দায়িত্ব ছিল নাস্তিক বা অবিশ্বাসীদের সাথে যুদ্ধ
করা। কিন্তু তাদের প্রধান উদ্দেশ্যেই ছিল লুটপাট করা।

এ্তিহ্যগত ভাবে
তারা পদাতিক সৈন্য হিসেবে কাজ করত, ইসলামের নামে বিভিন্ন লুষ্ঠন
চালাত। একাদশ শতাব্দীতে এসে তারা পশ্চিমে কাজ শুরু করে, এশিয়া
মাইনরে সেলজুক রাষ্ট্র আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মাঝে সীমানাতে তাদের

 

৭২০ রেজুলেসন

১০৮০ রেজুলেসন

Leave a Comment