বারবারোসলার(বারবারোসা)পর্ব ৩ বাংলা সাবটাইটেল – Barbaroslar Bangla Subtitles

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ৩

তৎপরতা ছিল বেশি । এখানে এসে তারা বাধা পায় গ্রিক পদাতিক সৈন্য আর
লুগ্ঠনকারীদের কাছে থেকে, যারা ও একইভাবে যুদ্ধবিদ্যার পারদর্শী এবং
কোনো কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রধীন নয়। যাদেরকে ডাকা হতো আক্রিটাই
নামে । এছাড়া তাদের মাঝে আরো বিভিন্ন মনোভাব কাজ করত । যেমন
নতুন তৃণভূমি খুঁজে পাওয়া আর গাজীদের সাথে মিশে নতুন নতুন লুষ্ঠন কাজে
অংশ নেয়া; কেননা বাইজেন্টাইন শাসন তখন দুর্বল হয়ে পড়েছিল ।

সেলজুক সুলতানদের কাছে এটি কোনো নীতির অংশবিশেষ ছিল না যে,
কোনো মুসলিম সাম্রাজ্যের দক্ষিণ ভাগ বিজয়ের কাছে মাথা নত করা । এর
মাধ্যমে বাইজেন্টাইনের খ্রিস্টিয়ান সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ করার পথ খোজা;
বরঞ্চ একটি অবশ্যস্তাবী দায়িত্‌ হিসেবেই তারা এতে অংশ নেয় যুদ্ধংদেহী
গাজী আর তুর্কমান শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য।

তাই সেলজুক সুলতান
তুঘরুল পবিত্র যোদ্ধাদের তার মুসলিম প্রদেশসমূহ লুষ্ঠনের চেয়েও আর্মেনীয়ার
খরিস্টিয়ান রাজ্যের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। আর এই যুদ্ধে তাদের সফলতার
ফলে লুগ্ঠনের মাত্রা এবং সহিংসতা যায় আরো বেড়ে যায়, যেটি ছড়িয়ে পড়ে
পূর্ব থেকে মধ্য আনাতোলিয়ায়।

নিজের রাজ্যের এই ভগ্নদশা ঠেকাতে গিয়ে বাইজেন্টাইন সম্রাট রোমানাস
চতুর্থ ডায়জিনিস বাধ্য হন প্রতিহত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। আর্মেনীয়ার শাসন
যাত্রা শুরু করেন। যাদের বেশির ভাগ ছিল ভাড়াটে সৈন্য । ফলম্বরূপ ১০৭১
খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্যের পরাজয়ে ঘটে এবং সেলজুক সুলতান আল্লপ আর্সলান
(সাহসী সিং) মানজিকার্ট এর এঁতিহাসিক সম্মুখ যুদ্ধে জয়লাভ
করেন। এই যুদ্ধ গ্রিকদের কাছে চিরদিনের জন্য ভয়ংকর দিন হিসেবে আখ্যা
পায় এবং এতিহাসিক একটি সংঘাত। দুটি সাম্রাজ্য এবং দুই ধরনের বিশ্বাসের
মধ্যে, যা এশিয়া মাইনরে সারা জীবনের জন্য তৃর্কিদের দরজা খুলে দেয় ।

মানজিকার্ত-এর যুদ্ধের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো ভূমির জন্য অগ্রসর
হওয়ার পথ খুলে যায়। বর্তমানেও এ যাত্রা অব্যাহত থাকে । আর এর মাধ্যমে
সেলজুক রাষ্ট্রের অনিয়মিত সামরিক বাহিনীর কদরও বেড়ে যায়। তাৎক্ষণিক
প্রতিক্রিয়া হিসেবে পূর্ব থেকে মধ্য এশিয়া মাইনর পর্যন্ত গাজীদের দৌরাত্ম্য
বেড়ে যায়। তুর্কমান যাযাবররা কোন সম্মুখ বাধা ছাড়াই নতুন নতুন ভূমিতে
প্রবেশ শুরু করে।

জীবন এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও এক ধরনের মিশ্র প্রভাব পড়ে, যা জয়ী
এবং বিজিতদের পক্ষে খুব স্বাভাবিক। এমনকি আনাতোলিয়া এবং আর্মেনিয়া
বাসীও তুর্কিদের একেবারে বিদেশি হিসেবে গণ্য করত না। এ ক্ষেত্রে পল
উইটেক লিখেছেন, “শুধু বাইজেন্টাইন বানির্শটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল । যেটি

পঞ্রবর্তীতে ইসলাম জায়গা করে নিয়েছিল ।’ সেলজুক রাষ্ট্র নিজেও এতটা
তাড়াহুড়ো করেনি । বিজিত স্ম্রাটকে ছেড়ে দেওয়ার পরে এর শাসকবর্গদেরকে
শিভিন্ন জয়ী অঞ্চলসমূহের শাসনভার দেয়া হয় একজন সেলজুক রাজকুমারের
অধীনে । সলেমান পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীর প্রথম ত্রুসেডের সূত্রপাত
ঘটে । এভাবেই মুসলিম এবং খ্রিস্টিয়ানদের মাঝে ব্যবধান গড়ে ওঠে।

দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্য ভাগের আগ পর্যন্ত সেলজুক রাষ্ট্র এশিয়া মাইনর
গঠনে হাত দেয়নি। এরপর তারা পুরাতন মুসলিম রাষ্ট্র থেকে বের হয়ে এশিয়া
মাইনর গঠনে হাত দেয়। মধ্য আনাতোলিয়াকে কন্যা শহরে রাজধানী স্থাপন
করে মুসলিম ধারায় এবং একটি সুস্থির গঠনের ভিত্তিতে নিজের সুলতানদের
দ্বারা শাসন শুরু করে। অন্যান্য মুসলিম শক্তিদের কাছে তাদের বংশধারা
পরিচিতি পায় রামের সালতানাত নামে, আরবীয়
ভাষায় এর অর্থ “রোমের সিজার” বাইজেন্টাইন খ্রিস্টিয়ানররা ।

মিরিত্তখেপালন, যুদ্ধের পর মানজিকার্ত এরও শতবর্ষ পরে) পশ্চিম
আনাতোলিয়া শাসন করত। একটি সম্মিলিত সেলজুক রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে
পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল এর ভিত্তি। এভাবেই রাম সেলজুকরা
ইসলামকে সাথে নিয়ে প্রভূত সম্মান অর্জন করে এবং তাদের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে
পারস্যের বিখ্যাত সেলজুক পরিণত হয়। ক্রমেই এরা একটি সমৃদ্ধশালী ও
উন্নত শক্তিতে পরিণত হয়, যা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এসে সাফল্যের শীর্ষচূড়া
স্পর্শ করে।

কিন্তু আক্ষেপের বিষয় একটি স্থায়ী হয়নি। এ পর্যায়ে এসে তাদেরকে
মোকাবিলা করতে হয় অনেকটা তাদেরই স্বগোত্রীয় যাযাবর জাতি মঙ্গোলদের ।
তুর্কিদের মতোই এরাও ইউরেশিয়ান অনূর্বর ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে । উত্তর হয়ে
রাশিয়াতে, পূর্ব দিকে চীনে এবং পশ্চিম দিকে এশিয়াতে এসে মঙ্গোলরা
মুসলিম বিশ্ব অধিকার করতে চায়।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে চেঙ্গিস খান
আক্রমণের সূচনা করেছিল আর পরবর্তীতে তার-ই বংশধরাও একই কাজ
করে। তুর্কি যাযাবর জাতিরা মঙ্গোলদের আগেই এ অংশে পৌছে গেছে। কিন্তু
তারপর তুর্কমান আর ছোট ছোট যোদ্ধা জাতি এশিয়া মাইনর জুড়ে সেলজুক
রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ দেখা দেয় ।

এদেরই পথ ধরে আসে ভয়ংকর মঙ্গোল
সেনাবাহিনী। ১২৪৩ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলরা তখন পর্যস্ত অজেয় সেলজুক্‌
সেনাবাহিনীকে রুখে দেয়, কো দা  নামক জায়গায়
বাইজেন্টাইন সহায়তায় ও সাধারণ ভাড়া করা সৈনিকদের মাধ্যমে সেনাবাহিনী
গড়ে তোলে আর যত শহর পর্যন্ত তা জয়ে এগিয়ে যায়। এর ফলে মাত্র এক
দিনেই এশিয়া মাইনরের ইতিহাসের সম্পূর্ণ পথ বদলে যায়। সেলজুক রাম

নিযুক্ত হয় হুলাগু তারপরে মঙ্গোলদের শক্তিও এশিয়া মাইনরের
অন্যান্য যাযাবর জাতির মতোই ক্ষণস্থায়ী ছিল।

ইতিমধ্যে এশিয়া মাইনরের সামগ্রিক অংশই পুরাতন সীমানাময় সভ্যতায়
ফেরৎ যায়। সেখানে কেন্দ্রীয় শাসক ছিল স্বাধীন। বাইজেন্টাইনের সম্মুখ দিক
দিয়ে পদাতিক সৈন্যরা পূর্বের মতোই আবারো লুগ্ঠনকাজে মেতে ওঠে।
এমনকি কোনো বাধা ছাড়াই বিভিন্ন শহরও দখল করে নেয়। কয়েক দিনের
মাঝেই এদের সাথে এসে জড়ো হয় তুর্কমান গোত্রীয় লোক আর এমনকি
সেলজুক রাষ্ট্র থেকে আগত শরণার্থীরা ।

এছাড়া শেখ এবং দরবেশ
শ্রেণীর মানুষরাও এসে জুটে যায়, যারা তুর্কিস্তান আর পারস্য থেকে পালিয়ে
এসে এশিয়া মাইনরে স্থান নেয় আর অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত তুর্কিদের
যুদ্ধে একমত পোষণ করে।

 

৭২০ রেজুলেসন

Leave a Comment