বারবারোসলার(বারবারোসা)পর্ব ৫ বাংলা সাবটাইটেল – Barbaroslar Bangla Subtitles

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ৫

একটি জনগোষ্ঠী যারা নিজেদেরকে শুধু তুর্কি মনে করত না-_ সাধারণভাবে
যেখান তুর্কিস্তানের অধিবাসীদেরকেই তুর্কি বলা হতো। কিন্তু ওসমান
অধিকারী ছিল। অটোমানদের অঞ্চলটিই ছিল সেসব দশ রাষ্ট্রের একটি যারা
সফলভাবে সেলজুক সাম্রাজ্য এবং মঙ্গোলদের প্রতিহত করতে পেরেছিল।
কিন্ত দশ অঞ্চলের মধ্যে এটিই ছিল ক্ষুদ্রতম ।

অটোমানরা তাদের সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রারভিকভাবে ভূতাত্ত্বিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। এশিয়া
মাইনরের উত্তর-পশ্চিম কোনে স্থারী হওয়ার পেছনে অটোমানদের কারণ ছিল
সহজেই সমুদ্রপথে যাত্রার সুবিধা আর এর পেছনেই ছিল ইউরোপের বলকান
অঞ্চল।

পদাতিক সৈন্যদের মাঝে অটোমানরা তাদের শ্রেষ্ঠতৃ প্রমাণ করতে
পেরেছে। কেননা সামরিক অভিযানের ফলাফলকে একটি কার্যকর রাজনৈতিক
গঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তারা ।

ওসমান একজন প্রশাসক হিসেবে ততটাই দক্ষ ছিলেন যতটা ছিলেন
একজন সৈনিক হিসেবে। এক্ষেত্রে সাহাব্য পেয়েছিল শ্বশুর ইদেব আলীর কাছ
থেকে । ওসমান ছিলেন জ্ঞানী এবং সহিষ্ক্ু শীসক। অনুসারীরা যাকে শ্রদ্ধা
করত মান্য করত যোদ্ধা হিসেবেই শুধু নয়, ইসলাম থেকে প্রাপ্ত অর্ধ্বর্গীয়
মর্যাদার জন্যে নয় বরঞ্চ নিজের লোকদের প্রতি ধীরস্থির এবং সহনশীল শাসক
হিসেবে।

প্রকৃতিগতভাবেই ওসমানের শ্রেষ্ঠতু ছিল যে তিনি আধিপত্যের নামে
জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতেন না। আর এই কারণে ওসমানের আশপাশের
সবাই ছোট অথবা বড় তাকে শ্রদ্ধা করতেন । তাদের মাঝে কোনো সংঘর্ষ ছিল
না। কেবল বিশ্বস্ততা । অনুসরণকারীরা ওসমানের সাথে কাজ করত ও তাকে

মান্য করত শান্তিপূর্ণভাবে । আর এভাবেই এই ক্ষুন্র রষ্ট্রটি এর সামাজিক এক্য
বিধান করেছিল এবং যার ফলে স্থায়ীত্ব লাভ করেছিল। এরই মাঝে নিজেদের
সেনাবাহিনীর গঠন করে নিজেরাই বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করত। আর
সেখানে প্রয়োজনে এদের নরজদারি করত নেতারা ।

সত্যিকারের ধর্মীয় উদ্দীপনা ও শুদ্ধি পাওয়ার আশায় ওসমান মতাদর্শ
হিসেবে ধারণ করেছিলেন খলিফা ওসমানের মতবাদকে । আর তাই শক্তি এবং
সম্পদের ওপরে ন্যায়বিচারকে স্থান দিয়েছিলেন। একই সময়ে শাসন কার্যের
ক্ষেত্রে তার ভিত্তি ছিল ব্যক্তিগত সার্বভৌমত্ব ।

তাই প্রথম দিককার অটোমানরা
অন্যান্য সেলজুক মতবাদের মধ্যে রাজবংশীয় সংঘর্ষ থেকে মুক্ত ছিল। নতুন
পরিবেশে জীবন শুরু করেছিল; তাদের ছিল ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্যও সহিষ্ক্ুতার
মতো গুণাবলি । এভাবেই তারা অর্জন করেছিল যে ভূমিতে শাসন করছে তার
সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর জন্য
যৌক্তিক ও গঠনগত অভিজ্ঞতা ।

ওসমান অনুসারীরা নিজেদের সম্পদ বাড়িয়ে তোলে আর একত্রিত করে
বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ীদেরকে। আর সময় যত গড়িয়ে
চলে অন্তর্গত বিশৃঙ্খলার উধ্র্ব ওঠে নতুন জীবন আর ভবিষ্যতের সন্ধান করে।
তারা গ্রিকদের সকল প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত দক্ষতা আয়ত্ত করতে চেষ্টা করে
আর এভাবেই মৃতপ্রায় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের এই সীমান্তবর্তী অংশ সরকার
ব্যবস্থা নিয়ে আরো গভীর পড়াশোনা চালিয়ে যায়।

অটোমানরা পুববর্তী আরবীয় অভিযানের জয়ীদের তুলনায় ভিন্নভাবে
ধর্মীয় উন্মাদনার উধধের্বে ওঠে শত্রুদের সাথে ব্যবহার করত। তুর্কিদের তুলনায়
গ্রিকদের মধ্যেই বসবাস করত বেশি। ওসমানের প্রতিবেশী গ্রাম আর দুর্গের
প্রধান নেতারা ছিল খ্রিস্টান।

যাদের সাথে ওসমানের বন্ধৃতৃসুলভ সম্পর্ক বজায়
ছিল। কাছের সাথিদের মাঝে ছিল মাইকেল ও মার্কোসের ছেলেরা, তাদের
গ্রিক পরিবারসমূহ। যারা কিনা এককালে শক্র ছিল, তারাই পরবর্তীতে
সমর্থনকারীরূপে আত্মপ্রকাশ করে। আর ওসমানের সাথে বন্ধৃত্রে খাতিরে
পরবর্তীতে তারাও ইসলাম গ্রহণ করে ।

অটোমান ভূখণ্ডের মাঝে সাধারণভাবে সব খ্রিস্টানকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য
করা হয়নি । কিন্ত বিপুলসংখ্যক খ্রিস্টান নিজেদের পছন্দেই ইসলাম গ্রহণ
করে। কনস্টান্টিনোপলের ক্রমেই প্রশাসনিক অবনতিতে এসব খ্রিস্টান মনে
করতে থাকে যে শাসকশ্রেণী তাদের অবহেলা করছে।

ফলে বাস্তববুদ্ধি বশত
তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল ও বিশ্বস্ত ওসমান শাসনামলে ঝুঁকে যায়। আর এর
ফলে মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ খুলে যায় আর অত্যাচারী কর প্রদানের
হাত থেকে বেঁচে যায়। আত্মিকভাবে অর্থডক্স চার্চেক ভাঙনের ফলে এসব

এশীয় গ্রিকরা নতুন বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে যায়। সামাজিকভাবে অটোমানরা
ঙাদের সীমান্তবর্তী প্রতিবেশীদের তুলনায় ততটা ভিন্ন ছিল না যতটা ছিল
গীবনযাপনের অভ্যাসের ক্ষেত্রে। এই গ্রিকরাও নিজেদের খুব সহজেই
অটোমানদের সাথে মানিয়ে নেয়।

ধর্মীস্তরিত হোক বা না হোক এটি কোনো
শ|ধা ছিল না। তুর্কি এবং গ্রিকদের মাঝে অসবর্ণ বিবাহ হয়ে ওঠে সাধারণ আর
এর ফলে সন্তান জন্দান ও তাদের লালন-পালনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে একটি
মিশ্র সমাজ।

এভাবেই অটোমান তুর্কিরা শুধু যাযাবর নয়; বরং স্রষ্টা এবং নির্মাণকারী
প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সময়ের প্রবহমানতায় এশিয়া মাইনরের
৬ণ্তর-পশ্চিম কোনে এ পার্বত্যঞ্চলে নিজেদের নতুন সভ্যতা স্থাপনের মাধ্যমে
জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ।

এশিয়া, ইউরোপ, মুসলিম-ধিস্টান, তুর্কি এবং তূর্কমান
যাযাবর এবং পরিশ্রমী সবকিছুর মিশ্রণে একটি জনপ্রিয় সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
বাহ্যিকভাবে যা ছিল প্রায়োগিক আর পূর্বের সামন্তবাদী তুর্কি মতবাদের
তুলনায় অর্থভক্স সংস্কৃতি ও সামাজিক বিধি-নিষেধ মুক্ত। অটোমানরা ছিল
একটি আদর্শ সমাজের নমুনা যাদের লক্ষ্য ছিল বাইজেন্টাইনের মতো হওয়া ।

যেভাবে সেলজুক তুর্কিরা আরব সাম্রাজ্যের শূন্যস্থান পূরণ করেছিল, যেভাবে
বাইজেন্টাইন নিজে রোমে সফল হয়েছিল ।
তাড়াহুড়া ছিল না। ধীর কিন্তু নিশ্চিতভাবে তার পরিকল্পনা ছিল পর্যবেক্ষণ করা
এবং অপেক্ষা করা। বেঁচে থাকা এবং শেখা আর এভাবেই ক্রমান্বয়ে
বাইজেন্টাইন ভূখণ্ডে কাজ করা। এশিয়াতে এই বাইজেন্টাইন ভূখণ্ড শাসন
করত তিনটি শহর।

দক্ষিণে ছিল বার্সা, অলিম্পাস পর্বতের ঢালু থেকে বিস্তৃত
সমৃদ্ধ বিথিনিয়ান সমভূমি পরিচালনা করত। মধ্যখানে ছিল একটি এদের
মাথায় অবস্থিত রাজধানী নিকাইয়া, উত্তরে ছিল নিকোমেডিয়া বন্দর,
কনস্টান্টিনোপলের দিক সমুদ্বপথ নির্দেশ করা দীর্ঘ উপসাগরের মাথায় ছিল
এর অবস্থান, এর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরেও যাতায়াতের সুবিধা ছিল।

আর এ
সমস্ত জায়গাই ছিল ওসমানের রাজধানী থেকে মাত্র একদিনের পথ । কিন্তু
ওসমান প্রথমেই তাদেরকে আক্রমণ করেননি । পূর্বতন গ্রাম্য বিবাদ যা ষাট
এগিয়েছে পুরাতন শহর ইসকিস্সেহির থেকে নতুন শহর ইয়েনিস্সেহিরে।
এর ফলে অবশ্য নিকাইয়া ও বার্সার মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।

কিন্তু ওসমান এ ব্যাপারেও সচেতন ছিলেন যে কনস্টান্টিনোপলের কাছে
এ অঞ্চলে শহর রক্ষায় দুর্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।

 

৭২০ রেজুলেসন

১০৮০ রেজুলেসন

Leave a Comment