বারবারোসলার ভলিউম ১৪ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ১৪

তিমুরের ব্যক্তিগত আধিপত্য ছিল ব্যাপক । সুশ্রী তৃক, ফর্সা গাত্রবর্ণ, শুভ্র
পরিচালনা করতেন।

মৌন স্বভাব, কঠোর ধর্মপ্রাণ এবং নীতিবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে তিনি
ছিলেন দক্ষ হিসাব এবং পরিকল্পনাকারী । প্রায় সময় কাটাতেন দাবা বোর্ড
সামনে নিয়ে। দাবার গুটির সাহায্যে কৌশল পরিকল্পনা করতেন; যার ফলে
শক্র যেই হোক না কেন, জয় সুনিশ্চিত। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ নাগাদে
দক্ষিণে গঙ্গা নদী এবং পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে পারস্য, আর্মেনীয়া এবং
ইউফ্রোটিস ও তাইঘ্রিসের উপর অববাহিকা এবং এভাবে এশিয়া মাইনরের
সীমান্ত পর্যন্ত। এর বাইরে একমাত্র বিস্তৃত ছিল অটোমান সাম্রাজ্য, আরেকটি

শ্রেষ্ঠ মুসলিম সাম্রাজ্য । এখন এই দুই প্রতিদ্ন্দ্রী সম্রাট তিমুর এবং বায়েজীদ,
তাতার এবং অটোমান একে অন্যের মোকাবেলা করবেন।

একজন সৈন্য হিসেবে তিমুর তুর্কিদের সামরিক শক্তিকে শ্রদ্ধার চোখে
দেখেন। সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির জন্য আরো অঞ্চল রয়ে গেছে জয়ের অপেক্ষায়;
দক্ষিণে আছে সিরিয়া, পবিত্র ভূমি । মেসোপটেমিয়া এবং মিশর। একই ভাবে
বায়েজীদের প্রয়োজন বলকান অঞ্চল জয় করে কনস্টান্টিনোপলকে নিজের
হাতে আনা । তিমুর বুঝতে পারেন কোথায় তাদের স্বার্থের ভিন্নতা আছে; কিন্তু
বায়েজীদ নন। অহংকার অপরিণামদর্শিতা আর প্রায় এক দশক ধরে কোনো
যুদ্ধে না পরাজিত হওয়া বায়েজীদ এমন ভাব করতে থাকেন যেন তিনি অনুগহ
করে তিমুরকে যুদ্ধে আহ্বান করেছেন।

বায়েজীদ আনাতোলিয়া দখল করলেও সময়ের অভাবে একত্রীকরণ
প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। ফলে জয়ী অঞ্চলসমূহের রাজুকমারদের
অনেকেই শরণার্থী হিসেবে তিমুরের বিহার সভায় দেশাত্তরী হয় আর পুনরায়
অটোমানদের হাত থেকে নিজেদের ভূমি পুনর্দখল করার চেষ্টা করতে থাকে।
এদের নিয়ে অথবা সুলতানের বিষয় নিয়ে তিমুর ততক্ষণ পর্ধস্ত চিন্তিত হয়ে
উঠেননি যতক্ষণ না অটোমানরা সিভাস দখল করে নেয়। এ শহরকে বায়েজীদ
করেন। এখানে অটোমানরা একজন তুর্কমান রাজকুমার কারা ইউসুফের
ভূমিতে অনুপ্রবেশ করে তাকে বন্দি করেন। কারা ইউসুফ তিমুরের
নিরাপত্তাধীন ছিল।

প্রথমবারের মতো তিমুর বায়েজীদের ওপর রাগ করে তার বন্দি ফেরত
চান। তিনি বায়েজীদের কাছে একজন কুটনৈতিকের মতো করেই পত্র পাঠান।
কিন্তু বায়েজীদের উত্তর ছিল বিদ্রুপাত্মক।

তিযুর তৎক্ষণাৎ সিভাসের বিপক্ষে মাঠে সৈন্য নিয়ে জড়ো হন।
সুলেমানের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক সৈন্য না থাকায় পিতার কাছে পত্র লিখেও
কোনো ফল পায়নি। সাহসের সাথে এগিয়েও নিজের কম সৈন্যসংখ্যা নিয়ে
পরবর্তীতে শহর ত্যাগ করে সুলেমান । আঠারো দিন লাগিয়ে তিমুর শহরের
দখলকাজ দুর্গ নির্মাণ শেষ করেন। এরপর প্রায় হাজারখানেক অবাধ্য
প্রতিরক্ষা সৈন্যকে কবর দেন; যারা ছিল আর্মেনীয়ার খ্রিস্টান। এরপর
এশিয়া মাইনরের দিকে আরো এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে বরঞ্চ দক্ষিণে এগিয়ে
যান। পথিমধ্যে জয় করেন আলেপ্পো, দামাস্কাস এবং বাগদাদ । ১৪০১
সালের শরতে তিমুর এশিয়া মাইনরে ফিরে আসেন। এখানে শীতের জন্য
বসতি স্থাপন করেন এবং ভাবতে থাকেন অটোমানদের বিপক্ষে যুদ্ধে
এগোবেন কি-না ।

বায়েজীদ এই প্রথমবারের মতো সত্যিকার কোনো হুমকির মুখে পড়লেন
এবং নিজের সমকক্ষ প্রতিছবন্দীর দেখা পেলেন। বায়েজীদের ক্ষেত্রে নিজের
স্বভাবসুলভ দ্রুতগতি বা সিদ্ধান্ত কিছুরই দেখা মিলল না।

১৪০২ সালের গ্রীষ্মে তিমুর অবশেষে বায়েজীদের বিরুদ্ধে যাত্রা করার
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। এখন তিনি অটোমানদের বিরুদ্ধে ইউরোপের খ্রিস্টান
শক্তি এবং জেনোইসদের মিত্রতা চাইলেন। সিরিয়া দখলের পর থেকে অন্য
মুসলিম শক্তিগুলোর সাথে সৌহার্দ্য বজায় রাখার আর কোনো তাড়না অনুভব
করেননি তিমুর | তাই বিজয়ী সেনাবাহিনী নিয়ে দক্ষিণে সিভাসে সরে আসেন ।
এবার প্রাথমিক ক্ষয়-ক্ষতির দুই বছর পরে বায়েজীদ কনস্টান্টিনোপল শহর
অবরোধ করে রাখার কাজ ছেড়ে নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে এশিয়া পার হয়ে
আসেন। বার্সা থেকে যাত্রা করে আনাতোলিয়ার উত্তপ্ত মালভূমি পেরিয়ে আসেন
আঙ্গোরাতে।

বায়েজীদের বাহিনীও তিমুর এবং তার তাতার বাহিনীর মতোই
শৃঙ্খল । সাহসী ও সামরিকভাবে দক্ষ ছিল। কিন্তু এ বাহিনী অতীতের মতো
পুরোপুরি একত্রিত বা তৃপ্ত ছিল না। এর এক-চুতর্থাংশ সৈন্যই ছিল
তাতার। বায়েজীদ তীর বাহিনীকে চলার পথে কোনো বিশ্রাম নেওয়ার
অবকাশ দেননি। নিজের রাজকোষ প্রকাশ না করায় বেতন-ভাতা নিয়েও
সৈন্যদের মধ্যে অসস্তৃষ্টি ছিল।

ইতিমধ্যে সুলতানের সেনাপ্রধানেরাও তার সাথে যুদ্ধ অভিযানের
পরিকল্পনা বিষয়ে একমত ছিল না। সেনাপ্রধানরা চেয়েছিল অটোমানরা তাদের
প্রথানুসারে প্রতিরক্ষার নীতি গ্রহণ করুক। কিন্তু বায়েজীদ একগুয়েমিতার
দরুণ আদেশ দেন সৈন্যরা হালি নদীর তীরে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করবে।
যেন তিমুর পৌছানো মাত্র যুদ্ধ করা যায়।

বেশ কিছু দিন পার হয়ে গেলেও তিমুরের দেখা পাওয়া যায় না।
অবশেষে সংবাদ আসে যে তিমুর তুর্কি বাহিনীকে চার পাশ থেকে ঘিরে
এগিয়ে আসছেন। তিমুর নিজের সৈন্যদের জন্য পাকা ফসলের কথা চিন্তা
করে নদীপথে এগিয়ে আসতে থাকে পশ্চিমের কঠিন পাহাড় বাদ দিয়ে।
এভাবে তুর্কি বাহিনী থাকে তিষুরের পূর্ব পাশে । অন্যদিকে শত্রুর গতিকে
শামুকের সাথে তুলনা করে অবজ্ঞা করা বায়েজীদ নিজের বাহিনীকে পানি
বর্জিত জায়গায় এনে জড়ো করে। ফলে তারা তৃষ্তায় প্রায় মুমূর্ষু হয়ে
পড়ে।

তিমুর আঙ্গোরার চারপাশ পরিদর্শন করতে করতে এমন এক জায়গায়
আসেন, যেখানে পূর্বে বায়েজীদের ক্যাম্প ছিল। এখানে তুর্কি বাহিনীর ফেলে
যাওয়া তাবুতে নিজেদের হেডকোয়ার্টার বানিয়ে তাতার বাহিনী প্রথমেই

উড

পার্বতী নদীতে বাঁধ দিয়ে নিজেদের পানির ব্যবস্থা করে। তিমুর আরো
নির্দেশ দেন যেন তুর্কিবাহিনীর পথে পড়ে এমন একটি ঝরনা পুরোপুরি ধ্বংস
করে দেয়া হয়। তুর্কিরবাহিনী পূর্ব থেকে বায়েজীদের পিছু ধাওয়া করতে অগ্রসর
হয়েছে। এখানেই তিমুর যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করেন।

এভাবেই বায়েজীদ দেখেন নিজের তৃষ্ঠার্ত বাহিনী নিয়ে এমন এক শক্রর
মোকাবেলা করতে চলেছেন যে তাঁরই শহর আঙ্গোরাতে রয়েছেন, যেখানে
বায়েজীদের থাকার কথা । শহরের দেয়ালের পাশাপাশি অবস্থিত বিশাল
সমভূমিতে শুরু হয় বিখ্যাত এক যুদ্ধ।

বায়েজীদের বা পাশে ছিল পুত্র সুলেমানের অধীনে আনাতোলিয়ার
সেনাবাহিনী । ডান দিকে সাবীয়া এবং ইউরোপী থেকে আগত সৈন্যরা ।
মাঝখানে অবস্থান নেন বায়েজীদ নিজে। তুর্কি বাহিনীর নিয়ামনুযায়ী প্রথমে
থেকে আগত ভাতার অশ্বারোহীদের এগিয়ে দেন। কিন্তু যুদ্ধ তখনো শুরুও
হয়নি। বায়েজীদের তাতার বাহিনী নিজের গোত্রের সাথে তিমুরের সাথে যুদ্ধ
করতে রাজি না হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চলে যায়। ফলাফলস্বরূপ সুলতান এক
ধাক্কায় নিজের এক-চতুর্থাংশ সৈন্য হারিয়ে বসেন।

বায়েজীদ এবার বা পাশ থেকে আক্রমণের নির্দেশ দিলেন। সুলেমান
এবং তীর অশ্বারোহী বাহিনী সাহসিকতার লড়াই করল তীর-বর্ষার বিরুদ্ধে ।
কন্তু তিমুরের সৈন্য ভঙ্গকে কোনো রূপ হটাতে না পেরে প্রায় পনেরো
হাজার সৈন্য হারিয়ে নিজেরাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে । এরপর তিমুরের সৈন্যরা
তার চারপাশে থেকে তুর্কি সৈন্যদের সরিয়ে দিয়ে অবশেষে মাঝখানে
সুলতানের সামনে পৌছায় । সুলতান একাকী জানিসারিস আর কিছু সৈন্য
নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন।

এভাবে সৈন্যবিহীন, জেনারেলবিহীন হয়েও এক পা এরু পা করে পিছিয়ে
খণ্টার পর ঘণ্টার বায়েজীদ আত্মরক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। তারপর রাত নামার
পর শেষ হয় সবকিছু তুর্কি, ইতিহাসবিদের মতে, যেমন করে উপোসী
শেকড়ে ভেড়ার পালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তেমনিভাবেই বায়েজীদ শত্রুর
সাথে লড়েছেন। তার কুঠারের প্রতিটি কোপ শক্রর গায়ে এমনভাবে পড়েছে
যে, দ্বিতীয় আঘাতের প্রয়োজনই পড়েনি। এরপর শেষবারের মতো ঘোড়ায়
ডে পাহাড়ে পালিয়ে যেতে চাইলেও অসমর্থ হন তিনি। ঘোড়া থেকে নামিয়ে
বেঁধে বন্দি বেশে তিমুরের তাবুতে নিয়ে যাওয়া হয় বায়েজীদকে । তিমুর তখন
পুত্রের সাথে দাবা খেলায় রত। কথিত আছে যে বন্দি হিসেবে তিমুর
শয়েজীদকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিজের পা রাখার আসবাব হিসেবে ব্যবহার করতেন।

বায়েজীদ নিজের অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতার কারণে পরাজিত হয়েছেন। তিনি
নিজের পূর্বপুরুষ, গাজীদের এঁতিহ্যকে অতিক্রম করতে চেয়েছেন এশিয়া
মাইনর ও ইউরোপে ।

তিমুর খুব দ্রুত এশিয়া মাইনর পার হন। তাতার বাহিনী খুব দ্রুত বার্সা
দখল করে তরুণী নারীদের হরণ করে, মসজিদে বানায় ঘোড়ার আস্তাবল,
শহর তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু বায়েজীদের পুত্র সুলেমানকে
ধরতে অসমর্থ হয়। সুলেমান পালিয়ে ইউরোপে চলে যান। এরপর তিযুর
ব্যক্তিগতভাবে সৈন্যবাহিনী নিয়ে স্মূর্নার বিপক্ষে অগ্রসর হন। এটিই ছিল শেষ
খিস্টান অধিকৃত অঞ্চল । গাজীদের রীতিনুযায়ী অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান
পরিচালনা করেন মুসলিম বিশ্বের অনুমোদন লাভ করার জন্য। আনাতোলিয়াতে
তিমুর বায়েজীদের চার পুত্রকে একে একে অন্যের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলেন।
জাগিয়ে তোলেন।

সুলেমানকে তাতার প্রজা হিসেবে ইউরোপে অটোমান
তিমুরের সার্বভৌমত্ স্বীকার করতে ও তীকে কর প্রদানের প্রস্তাব জানায়;
তিমুর নিজের সৈন্যবাহিনীকে ইউরোপে পৌছানোর জন্য ফেরি তৈরি করার
আদেশ দেন। এর মাধ্যমে দ্রুত ভয় ছড়িয়ে যায় যে তিনি কনস্টান্টিনোপল
অবরোধ করতে চাইছেন। কিন্তু তিমুরের এমন কোনো মনোবাসনা ছিল না।
একজন সাত্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ছিলেন পূর্বমুখী। ১৪০৩ সালে
বায়েজীদের মৃত্যুর পর তিমুর এশিয়া মাইনর ত্যাগ করে চীন অভিযানে
উদ্যোগী হন। কিন্ত্র পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Comment