বারবারোসলার ভলিউম ১৫ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ১৫

সামন্ততান্ত্রিক ইউরোপজুড়ে সিগিসমুন্ডের আর্তি পৌছে যায়। তখন এমন
একটা সময় যখন একশ বছরের যুদ্ধ মাত্রই শেষ হয়েছে এবং রোমান সাম্রাজ্য
কার্যত শান্তিপূর্ণ শুধু ফরাসি সামরিক বাহিনীই নয় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ফ্ল্যান্ডার,
লম্বার্ডি, স্যাভয়, জার্মানি থেকে সেনাবাহিনী এবং পোল্যান্ড বোহোমিয়া ইটালি,
স্পেন থেকে আগত অভিযাত্রীরা সিগিসমুন্ডের নিজের বাহিনীর সাথে এসে
জড়ো হয় বায়েজীদের বিদ্যুৎ্গতি থামাতে এবং বলকান থেকে চিরতরে
তুর্কিদের হটনোর উদ্দেশ্যে। এভাবেই একটি আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী যার
সংখ্যা ছিল প্রায় একশ হাজার মানুষ ।

১৩৯৬ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে বুদা
(89) তে জড়ো হয়। এটি ছিল অবিশ্বাসীদের মোকাবেলা করা সবচেয়ে
বৃহত্তম খ্রিস্টান সেনাবাহিনী। এরা আরো সহায়তা পেয়েছিল কৃষ্ণ সাগরের
অবস্থিত রণতরীসমূহ, ভেনেশীয়া, জেনোইসদের কাছ থেকে । সিগিসমুস্ড আশা
করেছিলেন মে মাসের মধ্যেই বায়েজীদ দানিয়ুব পার হয়ে এসে হাঙ্গেরির
আক্রমণ করবেন। কিন্তু এটি না হওয়ায় সিগিসমুন্ড প্রতিরক্ষা কৌশল তৈরি
করে। কিন্তু নাইটেরা গৌরবের জন্য আক্রমণের দিকেই বেশি উৎসাহী ছিল।

কিন্ত তারপরেও বায়েজীদের কাছ থেকে কোনো রূপ আক্রমণের চিহ্ত না পেয়ে
এবং বাগদাদের খলিফার প্রার্থনা এবং নির্দেশে তাতার, পারস্য, মেডিয়া
আক্রমণ করতে আসবেন । আর যদি তাও না হয় তাহলে তারা নিজেরাই তুর্কি
অধিকৃত অঞ্চলসমূহের মাঝ দিয়ে গিয়ে সিরিয়া ও পবিত্র ভূমি জয়ে করে
নেবে, জেরুজালেমকে সুলতান ও তার শত্রুদের হাত থেকে মুক্ত করবে। এর
পরেও বায়েজীদের কার্যত কোনো দেখাই ছিল না।

ইতিমধ্যে ক্রুসেডাররা ভাবল অলস বসে সময় না কাটিয়ে যে উদ্দেশ্যে
এখানে এসেছে তা পূর্ণ করতে । সুতরাং তারা দানিয়ুব উপত্যকা বেয়ে নিচে
নেমে আর্সোভায় পৌছায়। হাঙ্গেরিয় কোনো বাধা ছাড়াই সাবীয়াতে ছড়িয়ে
পড়ে মোরাভা উপত্যকায় অগ্রসর হয়। এখানে উন্নত ওয়াইনের সন্ধান পায়
তারা । তারা নিশ্‌ শহরকে দখল করে নেয় নির্বিচারে নারী-পুরুষ ও শিশুদেরকে
হত্যা করে।

বুলগেরিয়াতে প্রথম দানিয়ুব দুর্গ খ্রিস্টান সেনানায়কেরা খুলে দেয়ায় তুর্কি
সৈন্যদের নির্বিচারে নিধন করে খ্রিস্টান আন্তর্জাতিক সৈন্যবাহিনী। নদীর তীর
ধরে যেতে যেতে তারা এরপর রাহোভা দুর্ঘ আক্রমণ করে। এখানে তুর্কি
যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে । এরপর খ্রিস্টান সেনাবাহিনী একত্রে নিকোপলিসের
মূল দুর্গে ঘাটি বানায়। তারপরেও বায়েজীদের তুর্কি সেনাবাহিনীর কোনো
দেখা পাওয়া যায় না।

পশ্চিমা শাইটেরা শক্রর কোনো পদচিহ্ন না দেখতে ভোগ-বিলাসে,
নারীসঙ্গ ও পানাহারে মেতে ওঠে । এছাড়া বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন সৈন্দলের মধ্যে
মতবিরোধ দেখা দিতে থাকে ।

ষোলতম দিন পার হয়ে গেলেও বায়েজীদের কোনো দেখা থাকে না।
তারপর হঠাৎ করেই নিজের স্বভাবসুলভ দ্রুত গতিতে তুর্কি সৈন্যবাহিনী নিয়ে
হাজির হন বায়েজীদ-সু-প্রশিক্ষিত কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা ও খ্রিস্টান ক্ুসেডারদের
এদেরকে তুচ্ছ করে ভাবার অবকাশ নেই। তাই একটি সুপরিকল্পিত কৌশল
দরকার । প্রাথমিকভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে ফরাসি নাইট দে
কোচি। পর্বতে ঢোকার মুখের রাস্তায় একদল তুর্কি সৈন্যকে পরাজিত করে দে
কোচি। নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তোলে । অন্য নাইটেরা ঈর্ষান্বিত হয়ে
উঠলে সিগিসমুন্ড আবারো প্রতিরক্ষার কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত
করে।

কিন্তু কোতে দে ইলু সিগিসমুক্ডকে অবজ্ঞা করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। আর
ফ্রয়র্জাট এর মতে, হাঙ্গেরির রাজার জন্য অপেক্ষা না করে গর্ব ভরে নিজেরাই

পাহাড়ে উঠার মুখে এ বাহিনী বায়েজীদের বাহিনীকে আকস্মিক আকমণ
করে হত্যা করে। রক্তমাথা তরবারি দেখে নিজেদের বিজয়ে উল্লসিত হয়ে
ওঠে। কিন্ত তারপরই সুলতানের প্রধান ঘাট হাজারের সৈন্যবাহিনীর মুখোমুখি
হয়। যারা একদম টগবগে এবং যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। এ বাহিনী গড়ে উঠেছে
সাবীয়ার সহায়তায়। এ ব্যাপারে সিগিসমুস্ড আগে থেকেই পরিচিত যে
বায়েজীদের নীতি হচ্ছে প্রথম সারিতে অদক্ষ সৈন্যদের রাখায় । তাদের কতল
করার মাধ্যমে শত্রুর শক্তিই ক্ষয় হয়। এরপর এগিয়ে যায় বায়েজীদের
ঘোড়সওয়ার বাহিনী । নাইট বাহিনী নিজেদের অস্ত্রভারে ভারাব্রাত্ত ও
ঘোড়ার সাহায্য ব্যতীত এ আঘাতে সমূলে বিনাশ হয়ে যায়। ঘোড়ারা
মালিক ছাড়াই ক্যাম্পে ছুটে চলে যায়। ইউরোপীয় অশ্বারোহী বাহিনীর
সুদর্শন ফুলগুলো নিকোপালিসের মাটিতে ছড়িয়ে থাকে, মৃত অথবা
তুর্কিদের হাতে বন্দি হয়ে।

সময়ের তুলনায় ক্রুসেডের যোদ্ধারা ছিল শিক্ষানবিশ সৈন্যর মতো।
পেশাদার যুদ্ধের কোনো জ্ঞানই তাদের ছিল না। যা আয়ত্ত করতে হয়
শতাব্দীর পর শতাব্দী যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা ও সামরিক শিক্ষার মাধ্যমে ।
অন্যদিকে তুর্কি বাহিনী ছিল সবদিক থেকে চৌকস। তাদের প্রশিক্ষণ,
নিয়মানুবর্তিতা কৌশল, হালকা অস্ত্র সংযোগে চলাচল ও অশ্বারোহী তীরন্দাজ
ছিল৷ এভাবেই সিগিসমুন্ডও হাঙ্গেরিয় অভিজ্ঞতা লাভ করে।

এরপরে সিগিসমুন্ড দানিযুবে নিজের জীবিত সৈন্যদের সাথে নিয়ে
জাহাজে করে পালিয়ে যায়। আর নাইট বাহিনীর কিছু অশ অটোমানদের হাত
থেকে পালিয়ে জাহাজে ওঠে। বাকি আরো হাজারো জন কার্পেথিয়ান পর্বত
বেয়ে বহু কষ্টে প্রস্থান করে। পরের দিন বায়েজীদ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ
করে নির্বিচারে বন্দি হত্যার নির্দেশ দেন। এদের মাঝে কোতে দে নেভারস্‌ ও
তার সঙ্গী সাথিদের জোরপূর্বক সুলতানের পাশে দাঁড়িয়ে বন্দি হত্যার দৃশ্য
দেখতে বাধ্য করা হয়।

এদিন অন্তত দশ হাজার পুরুষ মৃত্যুবরণ করে। এভাবেই খ্রিস্টান
ইউরোপের কেন্দ্রে শেষ কুসেড বা ধর্মযুদ্ধ মুসলিমদের হাতে শোচনীয়
পরাজয়ে বরণ করে।

এরপর সুলতান শ্রিসে আক্রমণ করে থেসলীর গুরুত্পূর্ণ অংশ দখল
করেন। হেলেন কাটাকুজিনের মেয়েকে পত্বী রূপে গ্রহণ করেন। মোরিয়া-তে
আনাতোলিয়া থেকে আগত তুর্কিরা বসতি স্থাপন করে কিন্তু এথেন্স খ্রিস্টানদের
হাতেই রয়ে যায়।

বায়েজীদ বাহিনীর নৌশক্তি ততটা সুদক্ষ ছিল না। এছাড়া দুটি নৌ
শক্তিশালী দেশ ভেনিস এবং জেনোয়া সুলতানের বিরোধিতা করে । ১৩৯৯
সালে পেরা-তে জেনোয়া বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে এগিয়েও দশ হাজার সৈন্য
নিয়ে ফিরে আসতে হয় বায়েজীদকে । এখানে মোকাবেলা করতে হয় ফরাসি
মার্শাল বসিকল্টের যে কিনা নিকোপলিস থেকে অটোমানদের কাছ থেকে
পালাতে পেরেছিল। বসিকল্টের সহায়তায় জেনোয়া এবং ভেনেশিয়া
বাহিনী প্রথম নথিবদ্ধ যুদ্ধে সুলতানের নৌবাহিনীকে দার্দেনালিসে পরাজিত
করে বসফরাসের এশিয়া উপকূল পর্যন্ত পিছু ধাওয়া করে । ফিরে যাওয়ার
পূর্বে বসিকল্ট কনস্টান্টিনোপল শহরে একটি ফরাসি দুর্গ স্থাপন করে এবং
ম্যানুয়েলের পাশাপাশি সহকারী সম্্ট হিসেবে জনকে বসিয়ে রেখে যায়।

ম্যানুয়েল বসিকল্টের সাথে ইউরোপ ভ্রমণ করে পুনরায় খ্রিস্টান সহায়তা
পাওয়ার আশায়। ইটালি, ফ্রান্স, এবং ইংল্যান্ডে রাজোচিত সম্মান পেলেও
আশার বাণী ব্যতীত খালি হাতেই ফিরতে হয় ম্যানুয়েলকে। ইতিমধ্যে
সামাজ্যের রাজধানী ছয় বছর ধরে অবরুদ্ধ থেকে উপোস হওয়ার জোগাড় ।
অধিবাসীরা একে একে দেয়াল বেয়ে দড়ি নিয়ে নেমে অটোমানদের কাছে
আত্মসমর্পণ শুরু করে। সাম্রাজ্যের রাজকোষ হয়ে পড়ে শুন্য । পুরো শহরই
প্রায় আত্মসমর্পণের পথে। মোরিয়া, আলবেনিয়া, আড্রিয়াটিক–সবদিক
থেকেই বায়েজীদ প্রস্তুত হয়ে ওঠে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য দখল করার জন্য৷

একেবারে শেষ মুহূর্তে ১৪০২ সালের বসন্তে_পূর্ব থেকে আসে নতুন
£। সব অভিযান বাতিল করা হয়-_বলকান অঞ্চল থেকে খ্রিস্টান মুসলিম

ডত

সব সৈন্যকে এশিয়া মাইনরে সরিয়ে নেয়া হয়। কনস্টান্টিনোপল আর এর
সাম্রাজ্যের চিহ্সমূহ শেষ মিনিটের জন্য বেঁচে যায়।

একজন নতুন এবং পৃথিবী কীপিয়ে দেয়া বিজয়ী পশ্চিমে যাত্রা শুরু করে,
যেমনটা করেছিল চেঙ্গিস খান এবং তার মঙ্গোল জাতি প্রায় দুই শতাব্দী পূর্বে ।
তারই বংশধারার মানুষ তামুরলেন অথবা তিমুর দ্য তাতার ।

তাতারদের কাছে লোহা যখন প্রথম পরিচিত হতে থাকে তখন শুরুতেই একে
অন্যান্য ধাতুর মতো বাঁকানো যেত না। তাই তারা ধরে নেয় নিশ্চয়ই এখানে
অন্য কিছু আছে। তাতাররা এরই নাম দেয় তিমুর। এভাবেই নিজেদের
নেতাদেরও নাম দেয়ার প্রচলন হয়ে দীড়ায় “তিমুর” শব্দের মাধ্যমে । যার অর্থ
দীড়ায় সাধারণের চাইতে বেশি কোনো বৈশিষ্ট্য আছে এ নেতার। যা শুধু
শারীরিক শক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এসব তিমুরদের মাঝে সর্বোচ্চ পদটিই
পান তাতার। যার অর্থ সর্বশ্রেষ্ঠ লৌহমানব; পৃথিবী জয় করাই যার লক্ষ্য ।
স্বর্গে যেমন একজনই ঈশ্বর তেমনি পৃথিবীতেও একজনই শাসক থাকবেন।

ছোট একটি তাতার গোত্রে জন্ুগ্রহণ করেন তিনি। যৌবনে তিনি এ
গোত্রের অধিপতি হন। আর এভাবেই শাসন করেন সমরকন্দ ও হিন্দুস্তানের
পাহাড়ি সীমান্ত। তামুরলেন ছিলেন সাহসী, প্রাণশক্তিতে ভরপুর, সামরিকভাবে
জ্ঞানী এবং নেতৃত্ে ক্ষেত্রে ছিলেন স্রষ্ঠার আশীর্বাদপ্রাপ্ত। একটি শক্তিশালী
সেনাবাহিনী গড়ে তুলে তিনটি সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েছিলেন_ পারস্য,
তুর্কিস্তান এবং ভারত। মাত্র এক প্রজন্মের মাঝেই তামুরলেন নয়টি রাজবংশ

ংস করে সমরকন্দ থেকে এশিয়ার বৃহৎ একটি অংশ শাসন করেন।
ইসলামের নামে প্রভ হিসেবে ।

Leave a Comment