বারবারোসলার ভলিউম ১৭ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ১৭

এভাবে বিজয়ের মুহুর্তে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রথম শ্রেষ্ঠ শাসকের
জীবনাবসান ঘটে। মাত্র এক প্রজন্মের মাঝেই মুরাদ তার পিতার অটোমান
রাষ্ট্রকে একটি সাম্রাজ্যে পরিণত করেন, যার ভাগ্যই ছিল পৃথিবীর বুকে স্থায়ী
হয়ে শক্তিশালী হিসেবে রাজত্ব করা ।

মুরাদ কোনো তুচ্ছ যোদ্ধা ছিলেন না। যুদ্ধকলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন
দক্ষ । কৌশল প্রস্তুত সুদক্ষ ছিলেন দশা । কৌশল প্রস্তুত সুদক্ষ বস্তুত
নির্দয়ও ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে, নিজের সেনাপ্রধানদের প্রতি ছিল অগাধ বিশ্বাস।
কিন্তু তার শক্তি নিহিত ছিল শাস্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে ।

রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাকে
একজন শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত করেছে। যুদ্ধে জয় করার পর তিনি সব সময়
চিন্তা করতেন কিভাবে একটি খ্রিস্টান অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে
বতটা সম্ভব কম বাধার মাধ্যমে তাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা
যায়। ইউরোপীয় ভূমিতে অটোমানদের প্রতিষ্ঠিত কোনো সরকার বা
প্রশাসনই খাপ খায় না। তাই প্রয়োজন ছিল নতুন ধরনের প্রশাসন ব্যবস্থা
সময়, পরিবেশ এবং রীতি অনুযায়ী । আর মুরাদের শাসনামলেই এগুলো
সন্তব হয়েছে। যিনি নিজের প্রশাসকদের সেনাপ্রধানদের মতোই বিশ্বাস
শরতেন।

নিজের শক্রদের মানসিক গঠন লক্ষ করতেন মুরাদ । হোক সেটা গ্রিক
অথবা স্্রাভ। নিজের ধর্মবিশ্বাসে কষ্র মুসলমান হলেও নিজের সাম্রাজ্যে
ওপর নির্যাতন রুরতেন না এবং জানিসারিস ব্যতীত কাউকেই ইসলাম
এহণে বাধ্য করা হয়নি। ১৩৮৫ সালে অর্থডক্স ধর্মনেতা নিজে এক পত্রে
“পাপকে জানায় যে সুলতান তার গির্জাকে কাজ করার পুরোপুরি স্বাধীনতা
দিয়েছেন।

এই ধরনের সাদৃশ্যকরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুরাদ একটি বহুজাতিক
শ্ধর্মের বহু ভাষা-ভাবীদের একটি সমাজের বীজ বপন করে যান, যা তার
পবর্তী শাসকদের আমলেও যথাযথভাবে কাজ করে যায়। নিজেরে কৃতিতেই
এঠোমান সাম্রাজ্য রোমান সাম্রাজ্যের যথাযথ উত্তরসূরি হিসেবে প্রমাণিত হয়।
“মান সাম্রাজ্যের মতোই অটোমান সাম রাজ্যেও বিদেশিদেরকে নাগরিকত্তৃ
খদান করত। নিজেদের রীতিতে মানিয়ে নিয়ে এই বিদেশিদেরকে উৎসাহিত

করত সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের এবং সাম্রাজ্যের প্রগতিতে কাজ করার
জন্য। এর মাধ্যমে সুলতানের সাম্রাজ্যে খ্রিস্টান বংশোভূতরাও মুসলিম
বংশোভ্ভূতদের ন্যায় প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা পেত ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে
উচ্চ কর্মস্থলেও কাজ করতে পারত । এটি পরবর্তীতে একটা চর্চার মতো হয়ে
দীড়ায়, যা প্রফেসর টয়েনবীর ভাষায় “এটিই রোমানদেরকে প্রথম সাম্রাজ্য
গড়ে তুলে, পুনরায়-_আবার এবং তারপরেও এ সাম্রাজ্যের পুনরুথানে সক্ষম
করেছে!” এই নীতির কারণে টয়েনবীর মতে, অটোমানরা এমন একটি
সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্য এবং এর কাছাকাছি গড়ে তুলেছে যে প্রকৃত রোমান
সাম্রাজ্যের পুনরুথানের মতোই ।

1৪ ॥
মুরাদের হত্যাকাণ্ডের সাথে সাথেই তার জ্ঞোষ্ঠ পুত্র নিজেকে মুরাদের উত্তরসূরি
হিসেবে ঘোষণা করে । এ সময় বায়েজীদ ছিলেন কসোভার যুদ্ধ ক্ষেত্রে। রাষ্ট্রের
কাউঙ্সিলের ওপর থেকে চাপ, সিংহাসনের দাবিদার নিয়ে দ্বন্দ এসব কিছু
মীমাংসা করার জন্য সুলতান হিসেবে বায়েজীদ প্রথমেই নির্দেশ দেন নিজের
ছোট ভাই ইয়াকুবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য । নিজের সৈন্যবাহিনীর মাঝে
ইয়াকুবের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। এভাবে বায়েজীদ সাম্রাজ্যের মাঝে
ভ্রাতৃহত্যার একটি চর্চা স্থাপন করেন, যা অটোমান রাজবংশের ইতিহাসে
দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছিল ।

পরবর্তী শতাব্দীতে এ অমানবিক এঁতিহাসিক আইনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক
রূপ দেন বায়েজীদের উত্তরসূরি দ্বিতীয় মাহমুদ, ধিনি নিজের ছোট ভাইকে
শিশু অবস্থায় পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীতে অটোমান নেতারা
সিংহাসনে আরোহণের ক্ষেত্রে এ নিয়মের প্রতি ছিল নমনীয়। এভাবে
সম্রোজ্যের অবিভক্ত সার্বভৌমতৃ এবং রাজবংশের অখণ্ডতা বজায় থাকে
শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে।

শীঘই এ ব্যাপারে আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যে বায়েজীদ নিজের পিতার
মতো ধীরস্থির স্বভাবের খুব কমই নিজের মাঝে ধারণ করতেন । স্বভাবের দিক
থেকে দ্রুত এবং প্রচণ্ততার কারণে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পূর্বসূরিদের তৈরি
করা অনেক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান বায়েজীদ। অন্যদিকে একজন সেনানায়ক
হিসেবে বায়েজীদ ছিলেন সুদক্ষ! যুদ্ধ করার প্রতি তার তৃষ্ঠা ছিল অদম্য ।
ইউরোপ এবং এশিয়াজুড়ে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে তিনি নিজের
সেনাবাহিনী নিয়ে এত দ্রুত ছুটে বেড়াতেন যে, তাকে “বিজলী” বা “বিদ্যুৎ
চমক” হিসেবে অভিহিত করা হতো।

মুণতান প্রথম বায়েজীদ (১৩৮৯-১৪০২), যাকে বজ্রপাতের ন্যায় ভয়ঙ্কর” নামে অভিহিত
শা হতো । এছাড়াও গাজী বা সত্য বিশ্বাসের যোদ্ধা উপাধি ও লাভ করেছিলেন ৷ এ
উপাধি তাদেরকেই দেয়া হতো, যারা অ-মুসলিম ভূখন্ডে ইসলামের রাজত্ব বৃদ্ধি
শরেছিলেন ।

ইউরোপে পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বায়েজীদ পাইকারি
হত্যাযজ্ঞে মতে উঠেন। এর ফলে কসোভোর যুদ্ধক্ষেত্রে সাবীয়ান সেনাবাহিনীর
সকল প্রকার মহত্ব ধুয়ে মুছে যায়। এরপর বায়েজীদ প্রিন্স লাজারের পুত্র
স্টিফেন বালকোভিটজ্রে সাথে এক প্রকার সমঝোতায় আসেন। বায়েজীদ
বুঝতে পারেন যে সাবীয়ান সেনাবাহিনী অটোমানদের জন্য হুমকির কারণ
নয়। বরঞ্চ সাবীয়ান সেনাবাহিনীর সহায়তা তার দরকার-__যেমনটা মুরাদ
এশিয়া মাইনর অভিযানের সময় করেছিলেন__দানিযুব উপত্যকার প্রতিরক্ষা
জন্য হাঙ্গেরিয়ার বিপক্ষে সাবীয়া অটোমানদেরকে সাহায্য করবে। তাই তিনি
স্টিফেনের সাথে আনন্দের সাথেই মৈত্রী জোটে আবদ্ধ হন; যা তার পুরো
শাসনকালব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল৷ সার্বীয়া অটোমানের সাথে একীভূত হয়ে
যায়নি; কিন্তু একটি স্বাধীন প্রজারাষট্র হিসেবে কাজ শুরু করে।

স্টিফেন বার্ষিক
কর প্রদানের বিনিময়ে তার পিতার মতোই সমস্ত সুখ-সুবিধা ভোগ করত।
বায়েজীদের সাথে স্টিফেন নিজের বোন ডেসপিনার বিবাহ দেন, অটোমান
সেনাবাহিনীর একটি অংশের দায়িত্‌ গ্রহণ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে
সেভাবেই পৌছে যাবে-__তাদের পূর্ব অনুযোগসমূহ এখন দূরীভূত হয়
লুষ্ঠনদ্বব্যের ওপর সমান অংশীদারত্্র প্রতিশ্রতিতে। এরই মাঝে জয় করা
সাবীয়া অঞ্চলে মুসলিম কলোনি স্থাপিত হয় ।

এরপর বায়েজীদ এশিয়া মাইনরের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। এখানে
এসে তার অধৈর্ধ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ফলে পুরো সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ বিশৃঙ্খল
হয়ে পড়ে । প্রথম দিকে তিনি সফলতা পান। আয়েদীন-এর আমিরকে প্রজায়
পরিণত করে এবং সারুখান ও মেন্ডিজকে পরাজিত করে আজিয়ানে অটোমান
সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশ্যে
গৌছান। এই প্রস্তুতির জন্য তাদের নৌশক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

Leave a Comment