বারবারোসলার ভলিউম ১৯ বাংলা সাবটাইটেল – অনুবাদ মিডিয়া

দ্যা আটোম্যান সেঞ্চুরিস পর্ব ২৫

ইসলামিক অর্থনৈতিক জীবনের আরো একটি এতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের
ওপর সুলতান মাহমুদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে উৎসাহিত করেন; যা ছিল শ্রমিক
সংস্থা বা শ্রমিক ইউনিয়ন। একে ঘিরে আর্বত হতো সব পেশাজীবী লোক।
গ্রক রোমান বিশ্বে জন্মলাভ করে ইউরোপে পরিচিত থাকলেও ধীরে ধীরে
এসলামেও পরিচিত হতে থাকে। পূর্বের অটোমান সমাজে আখিদের
নেতৃত্বাধীনে এরা গুরুতৃপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এবং শ্রমিক ও কারিগরদেরকে
গাজনৈতিক নিরাপত্তা দান করত।

ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ শ্রমিক সমাজের
শ্রেণী বিভাজন করা হতো । প্রতিটিতে একজন নেতা থাকত, প্রতিনিধি হিসেবে
যে সরকারের কাছে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পেশ করত । যদিও এদের ওপর
শা্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্ত এগুলো রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ থাকতো বিভিন্ন
পিষয়ে। যেমন শ্রম দাম, লাভের পরিমাণ, গুণগত মান, হঠকারিতা রোধ
রা প্রভৃতি। রাষ্ট্র এদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করলেও
ওনসাধারণ ও রাজকোষের নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে সরকার মাথা ঘামাত।

নগরায়ণ এবং বাজার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এই সমাজ
এবস্থাও অটোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। পশ্চিমের সাথে
এ।ণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়, যা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম উপাদানে পরিণত
হো। ধীরে ধীরে এ সাস্রাজ্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে বাণিজ্যিক যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে; যার
ধলে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানও শুরু
হ।

যাযাবর বৃত্তি থেকে ধীরে ধীরে ইসলামিক সাম্রাজ্যে পরিণত হওয়া এ
শাষ্ট্ের জনগণ এবং সম্পদের একটাই কাজ ছিল আর তা হলো শাসকের শক্তি
শংরক্ষণ করা। জনগণ প্রধানত দুভাগে ভাগ ছিল। তাদের এক অংশ
নতানের শাসনকাজের প্রতিনিধিত্ব করত-_ প্রশাসক, সেনাবাহিনী, ধর্মীয়

গুরুরা। অন্যদিকে ছিল রায়া সম্প্রদায়। কৃষক এবং এক শ্রেণীর কারিগর ।
এরাই ছিল উৎপাদনকারী ও কর প্রদানকারী । সামাজিক ও রাজনৈতিক শৃডখলা
বজায় রাখার জন্য এদের উৎপাদন পদ্ধতি ও লাভের পরিমাণের ওপর কঠোর
সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকত। এটি নিশ্চিত করার জন্য খুব কঠোর একটি যুক্তি মানা
হতো- প্রত্যেক মানুষই তার নিজের শ্রেণীতে বাস করবে।

এর বাইরেও তৃতীয় এক শ্রেণীর মানুষ ধীরে ধীরে গুরুতৃপূর্ণ হয়ে উঠতে
থাকে। বণিক শ্রেণী, যারা এ ধরনের আইনি এবং সামাজিক বিধি-নিষেধের
উধের্ব ছিল। আর এরাই একমাত্র পুঁজিপতি হতে পারত । এরা ছিল বড় বড়
ব্যবসায়ী, যারা লাভের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে ব্যবসা করত, বহু দূর
থেকে পণ্য আমদানি করত। পঞ্চদশ শতাব্দীর এ অংশে বাণিজ্য নিয়ে
সুলতানের উদ্িগ্নতার কথা পাওয়া যায় সিনাল পাশার রচনায়! মাহমুদ শহরের
দেয়ালসমূহ পুনরায় নির্মাণ ও সুরক্ষিত করার কাজ শুরু করেন। তার লক্ষ্য
ছিল স্থাপত্যবিদ্যার ক্ষেত্রে বাইজেন্টাইন আমলের থেকেও সুন্দর করে এগুলো
নির্মাণ করা। এমনকি নিজের মসজিদ নির্মাণেও তিনি ততটা সময় ব্যয়
করেননি । একজন গ্রিক স্থাপত্যবিদকে নিয়োগ দিয়ে হলি আযাপোসেলস-এর
জন্য মালামাল ও জায়গা নির্বাচন করেন।

মাহমুদের নিজের মসজিদে আয়া সোফিয়ার আয়তনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং এ নিয়ে তিনি বেশ গর্ববোধ
করতেন। এটি ছিল বিশাল গম্বুজ, মসজিদের মাঝে প্রথম এবং পরবর্তী
শতাব্দীগুলোতে ইনস্তাস্থলের গৌরবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল । প্রথম
দিকে হাণিয়া সোফিয়ার বাইজেন্টাইন রীতি থেকে অনুপ্রাণিত হলেও ধীরে
ধীরে নতুন স্থাপত্যরীতির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব শহর হিসেবে খরিস্টানদেরকে
অতিক্রম করে।

মাহমুদ ইয়ুব মসজিদের ভিত্তিপরস্তরও স্থাপন করেছিলেন। নবীজির সঙ্গী,
যিনি এসব দেয়ালের পাশে মৃত্যুবরণ করেন এবং লাগাতার অনুসন্ধানের
মাধ্যমে তীর কবর পাওয়া যায়। এর পরবর্তী কাজ ছিল সম্রাটের প্রায় ধ্বংস
হয়ে যাওয়া প্রাসাদ মেরামত করা । মাহমুদ নিজের জন্যে বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ
করে আড্রিয়ানোপল থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন ।

নিজের সাম্রাজ্যকে একত্রিত করে সীমান্ত সম্প্রসারণ করা। সমুদ্রের দিকে
সুলতানের ছিল বিশাল দুর্গবিশিষ্ট পোতাশ্রয়, এর নৌশক্তিও ছিল ব্যাপক।
এরপর দার্দেনালিস, এর উভয় প্রান্তে নতুন দুর্গ তৈরি রুরা হয়। সুলতান

মুদ্দের ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণা-সভা ছিল না, ইউরোপ এবং এশিয়াতে প্রতিবছর
যে সুদক্ষ সেনাবাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন তার গন্তব্য সম্পর্কে কারো
কোনো ধারণা থাকত না। একবার এক অভিযান নিয়ে এক জেনারেলের
প্রশ্নের উত্তরে সুলতান জানান যে যদি তীর দাড়ির একটি চুলও তার
মনোবাসনা জানতে পারে তাহলে তিনি তা তুলে ফেলে দিতেই বেশি
স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

পিতার শক্রদেরকে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনিও শত্রু হিসেবে পেয়েছিলেন।
একের পর এক বিভিন্ন পরিকল্পনা করে তিনি শক্রদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।
১৪৫৪ এবং ১৪৫৫ সালের প্রথমেই অগ্রসর হন সাবীয়ার বিরুদ্ধে । এখানে
মাহমুদ গুরুতৃপূর্ণ কিছু অঞ্চল দখল করেন, মুল্যবান রূপার খনির অধিকার
পান এবং অটোমান সাম্রাজ্যের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসেন। কিন্ত
হাঙ্গেরিতে অগ্সর হওয়ার ক্ষেত্রে আরো একটি বাধা রয়ে যায়-_দানিযুবে
বেলগ্রেড শহর।

এ উদ্দেশ্যে ১৪৫৬ সালে প্রায় দেড় লক্ষ সশত্ত্র সৈনিক এবং হালকা
নৌথানের বহর নিয়ে দানিযুব থেকে ভিদিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন
মাহমুদ । দানিযুব থেকে শহর অবরুদ্ধ করার জন্য নদীর ওপর অববাহিকায়
নৌকা দিয়ে দেয়াল প্রস্তুত করেন মাহমুদ । মোহনায় পশ্চিমমুখী করে ভারী অস্ত্র
তাক করেন। জুনের প্রথমে, শস্য পাকার মৌসুমে পাহাড়ের মাথায় সুলতানের
তাবু ফেলা হয়।

জুলাইয়ের প্রথম দিকে তুর্কি অশ্বারোহী বাহিনী পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলে হামলা
শুরু করে। বোমা ফেলা শুরু হয়; দেয়াল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও
বেসামরিক ক্ষয়-ক্ষতি তেমনটা হয়নি৷ এরপর হুনযাদীর নৌসেনারা দানিয়ুবের
নিচে আবির্ভূত হয়। অন্যদিকে তার অশ্বারোহী বাহিনী নদীতীরে তুর্কিদের পিছু
হঠার রাস্তা দখল করে নেয়। পাঁচ ঘণ্টা ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ হওয়ার পর তুর্কিরা সাহসী হয়ে উঠলে নদীর পানি লাল হয়ে ওঠে রক্তে ।

Leave a Comment